
দিঘার সমুদ্রে তলিয়ে গেল মধ্যমগ্রামের কিশোর
শেষ আপডেট: 14 June 2024 16:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের দিঘার সমুদ্রে মর্মান্তিক ঘটনা। সমুদ্রে স্নান করতে নেমে তলিয়ে গেল এক স্কুল পড়ুয়া। ১৫ বছরের ওই কিশোরের নাম শুভজিৎ দে। উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের বাসিন্দা শুভজিৎ মা ও ভাইয়ের সঙ্গে দিঘা বেড়াতে আসে। শুক্রবার সকালে সমুদ্রে স্নান করতে নেমে ঘটে বিপত্তি। উত্তাল ঢেউ সামলাতে পারেনি ওই কিশোর। তাঁর দেহের খোঁজে চলছে তল্লাশি।
পুলিশ সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার শুভজিৎ এবং তার ভাই বিশ্বজিৎ মায়ের সঙ্গে দিঘা বেড়াতে যায়। শুক্রবার সকাল ১০টা নাগাদ ওল্ড দিঘার জগন্নাথ ঘাটে স্নান করতে যায় তারা। এদিকে সকাল থেকেই দিঘার সমুদ্র ছিল উত্তাল। স্নান করতে নেমে কিছুক্ষের মধ্যে বিপদ ঘনিয়ে আসে।
আচমকাই উত্তাল ঢেউয়ে বেসামাল হয়ে তলিয়ে যেতে থাকে শুভজিৎ। দাদাকে তলিয়ে যেতে দেখে ছোট ভাই বিশ্বজিৎ তাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে যায়। তখনই ঘটনাটি নজরে আসায় তড়িঘড়ি দিঘা থানার সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা দুই ভাইকে বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তবে বিশ্বজিৎকে উদ্ধার করতে পারলেও তাঁর দাদা শুভজিৎকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
দিঘা থানার তৎপরতায় স্পিড বোর্ড নামানো হয়েছে । দীর্ঘক্ষণ ধরে খোঁজাখুঁজি চালানো হলেও এই প্রতিবেদন লেখার সময় অর্থাৎ বিকেল সাড়ে ৪ টে পর্যন্ত শুভজিতের দেহের খোঁজ পাওয়া যায়নি। ইতিমধ্যেই পরিবারের সদস্যরা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
মর্মান্তিক ঘটনাটিতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বড় ছেলের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন শুভজিতের মা। তিনি জানান, দুই ছেলে সমুদ্রে নেমেছিল। কিন্তু বড় ছেলে হঠাৎ অনেকটাই দূরে চলে যায়। আচমকাই সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ে চোখের সামনে সব শেষ হয়ে যায়। শুভজিৎকে তলিয়ে যেতে দেখে সমুদ্রে ঝাঁপ দেয় তার দাদাও। কিন্তু, শেষ রক্ষা হয়নি।
গত মে মাসের শেষের দিকে দিঘায় তলিয়ে যায় এক যুবক। প্রায় ১১ ঘণ্টা নিখোঁজ থাকার পর যুবকের দেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। ঘূর্ণিঝড় রেমালের সতর্কবার্তার সময়ই ওই অঘটন ঘটে।