
শেষ আপডেট: 19 August 2022 05:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এবার ভারত মহাসাগরে (Indian Ocean) ঘাঁটি গাড়তে তৎপর হল চিনা নৌবাহিনী (China's naval base)। উপগ্রহ চিত্রে (Satellite Picture) ধরা পড়ল সেই ছবি। এই ঘটনা ভারতের (India) পক্ষে স্বস্তিদায়ক নয় বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
ভারত মহাসাগরের জিবুতিতে নৌবাহিনীর ঘাঁটি গাড়ার ব্যাপারে চিনের এই তৎপরতা আসলে নয়াদিল্লিকে নিশানা করেই, মত প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের। আগেই পূর্ব লাদাখ, ডোকলাম এবং অরুণাচল প্রদেশে সেনাঘাঁটি তৈরি করেছিল চিন। এবারে ভারত মহাসাগরের এই নৌঘাঁটির অবস্থান রণকৌশলের দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। লোহিত সাগর হয়ে এডেন উপসাগর থেকে সুয়েজ খালের দিকে বাব-এল-মান্ডেব প্রণালীতে অবস্থান করছে চিনা নৌবাহিনী। জিবুতির এই নৌঘাঁটি থেকে এশিয়া এবং আফ্রিকা মহাদেশের বিস্তীর্ণ অংশে নিজেদের উপস্থিতির কথা জানান দিতে পারবে চিন। এমনকি, আরব সাগরের জলসীমায় ঢুকেও আসতে পারবে তারা, যার ফলে সরাসরি চাপে পড়বে ভারত।
বছর দশেক আগে থেকেই বাব-এল-মান্ডেব প্রণালীতে ঘাঁটি গড়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে চিন। ২০১৬ সাল থেকেই নতুন নৌঘাঁটি তৈরির কাজ শুরু করেছিলো চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি। এখনের এই নৌঘাঁটি তারই প্রথম ধাপ। নয়া এই নৌঘাঁটি তৈরি করতে চিনের খরচ হয়েছে ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা।
ঔপনিবেশিক যুগের বন্দর-দুর্গের আদলে বানানো হয়েছে নয়া এই নৌঘাঁটি, জানিয়েছেন নৌবাহিনীর নিরাপত্তা পর্যবেক্ষক সংস্থা 'কভার্ট শোরস।' অত্যাধুনিক ল্যান্ডিং ভেহিকেলস এবং রণতরী রয়েছে এই ঘাঁটিতে। বিশেষজ্ঞ এইচ এল সাটন জানিয়েছেন, নৌ-ঘাঁটির অবস্থান এবং সাজসজ্জা থেকে স্পষ্ট যে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই এই নৌঘাঁটি তৈরি করা হয়েছে।
কয়েকদিন আগেই চিনের গুপ্তচর জাহাজ 'ইওয়াং ওয়াং ৫' নোঙর ফেলেছিল শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটা বন্দরে। এ ব্যাপারে ভারত সরকারের আপত্তি কানে তোলেনি চিন। ফলে ভারত মহাসাগরের বুকে চিনের এই নৌঘাঁটি নয়াদিল্লির উদ্বেগ বাড়াবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
শ্রীলঙ্কার বন্দরে ঢোকার অনুমতি পেল চিনের ‘গুপ্তচর’ জাহাজ, সতর্ক নজর রাখছে ভারতও