সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়ে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ কোনও দয়ার বিষয় নয়, বরং রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের সাংবিধানিক অধিকার। এই রায়কে ঐতিহাসিক বলে ব্যাখ্যা করছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ সহ বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ভাস্কর ঘোষ
শেষ আপডেট: 5 February 2026 12:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শীর্ষ আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার (West Bengal Govt) কি বকেয়া ডিএ মেটাবে? সন্দেহ কর্মচারীদের। তাই রায়ের পরই আন্দোলন থামিয়ে দিতে রাজি নন তাঁরা। বিষয়টি ইতিমধ্যে স্পষ্ট করে দিয়েছে ডিএ (Supreme Court DA Verdict) আন্দোলনকারীরা।
রাজ্য সরকারের তরফে দেশের নামী সিনিয়র আইনজীবীদের সওয়াল সত্ত্বেও ডিএ মামলায় ফের একবার কর্মচারীদের পক্ষেই দাঁড়াল দেশের শীর্ষ আদালত - বৃহস্পতিবার ডিএ মামলার রায় ঘোষণার পর এমনই প্রতিক্রিয়া দিয়েছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ (Sangrami Joutho Mancha)।
সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়ে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA Case Supreme Court) কোনও দয়ার বিষয় নয়, বরং রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের সাংবিধানিক অধিকার। এই রায়কে ঐতিহাসিক বলে ব্যাখ্যা করছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ সহ বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠন।
বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণার পর সংগঠনের তরফে জানানো হয়, আদালতের এই নির্দেশ রাজ্য সরকারকে মানতেই হবে। সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের নেতা ভাস্কর ঘোষের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে রাজ্য কর্মচারীরা যে ন্যায্য দাবিতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন, এই রায়ের মাধ্যমে সেই দাবির আইনি স্বীকৃতি মিলল। তাঁর কথায়, রাজ্যের আর্থিক অবস্থার যুক্তি দেখিয়ে কর্মচারীদের প্রাপ্য অধিকার অস্বীকার করা যায় না - এই বার্তাই ফের একবার দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
রায়ে বলা হয়েছে, আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে রাজ্য সরকারকে বকেয়া ডিএ-র অন্তত ২৫ শতাংশ পরিশোধ করতে হবে। পাশাপাশি ১৫ মে-র মধ্যে সম্পূর্ণ বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশের আওতায় বর্তমানে কর্মরত কর্মচারীদের পাশাপাশি ২০১৯ সালের পর অবসর নেওয়া কর্মীরাও থাকবেন। তাঁদের ক্ষেত্রে ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত জমে থাকা ডিএ রাজ্যকেই পরিশোধ করতে হবে।
তবে আদালতের রায় ঘোষিত হলেও রাজ্য সরকার আদৌ সেই নির্দেশ কার্যকর করবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। ভাস্কর ঘোষ সাংবাদিক বৈঠকে জানান, অতীতেও সুপ্রিম কোর্ট ২৫ শতাংশ ডিএ মেটানোর নির্দেশ দিয়েছিল, কিন্তু সেই নির্দেশ কার্যকর হয়নি। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই এবারও তাঁরা সতর্ক। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, এবার আর আদালতের নির্দেশ অমান্য করার সুযোগ নেই।
রায় ঘোষণার পর সাংবাদিক বৈঠকে ভাস্কর ঘোষ বলেন, আগেও ২৫ শতাংশ ডিএ মেটানোর নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট, কিন্তু রাজ্য সরকার তা কার্যকর করেনি। সেই অভিজ্ঞতার কারণেই এবারও তাঁরা আশ্বস্ত নন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়ে তাঁর মন্তব্য, “আগে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করার সাহস দেখিয়েছিলেন। এবার আর আগুন নিয়ে খেলবেন না।”
সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের তরফে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, কয়েক মাসের মধ্যেই রাজ্যে বিধানসভা ভোট। তার আগে যদি আদালতের নির্দেশ মেনে ডিএ না দেওয়া হয়, তবে এমন আন্দোলন হবে, যা রাজ্যবাসী আগে দেখেননি। ভাস্করের কথায়, প্রয়োজনে মুখ্যমন্ত্রীকে নতুন করে আন্দোলনের পাঠ দেবে কর্মচারী সমাজ।
এই রায়ের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ নজরদারি কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। সেই কমিটিতে থাকছেন প্রাক্তন বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রা, ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ত্রিলোক সিং চৌহান, বিচারপতি গৌতম মাধুরী এবং কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল বা তাঁর দফতরের শীর্ষ আধিকারিক। ডিএ পরিশোধের সময়সূচি, পদ্ধতি এবং বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপ এই কমিটির নজরদারিতেই সম্পন্ন করতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজেটের আগে এবং নির্বাচনের মুখে এই রায় রাজ্য রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে কর্মচারী মহলে এই রায় নতুন করে আশার আলো দেখাল বলেই মত পর্যবেক্ষকদের।