Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
পদ খোয়ানোর পর এবার নিরাপত্তা! রাঘব চাড্ডার Z+ সুরক্ষা তুলে নিল পাঞ্জাব সরকার, তুঙ্গে জল্পনাফাঁকা স্টেডিয়ামে পিএসএলের আড়ালে ভারতের জ্বালানি সঙ্কট! নকভির ‘যুক্তি’তে হতভম্ব সাংবাদিকভোটের রেজাল্টে পর ফের ডিএ মামলার শুনানি শুনবে সুপ্রিম কোর্ট! ৬০০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে, জানাল রাজ্যহরমুজ প্রণালীতে ট্রাম্পের দাপট! মার্কিন যুদ্ধজাহাজের বাধায় ফিরল বিদেশী ট্যাঙ্কারTCS Case: প্রথমে বন্ধুত্ব, তারপর টাকার টোপ! টিসিএসের অফিসে কীভাবে টার্গেট করা হত কর্মীদের‘ফোর্স ৩’ শুটিং জোরকদমে, পুরনো চরিত্রে ফিরছেন জন— নতুন চমক কারা?'মমতা চান না গোর্খারা শান্তিতে থাকুন, অধিকার ফিরে পান', দার্জিলিঙে ভিডিওবার্তা অমিত শাহেরগ্রাহকের পকেট বাঁচাতে ভারি খেসারত দিচ্ছে তেল কোম্পানিগুলি! প্রতিদিন লোকসান ১,৬০০ কোটিরইচ্ছেশক্তির বারুদে আগুন ধরাল ধোনির পেপ টক! নাইটদের বিঁধে দুরন্ত কামব্যাক নুর আহমেদেরময়মনসিংহে দীপুচন্দ্র দাসকে হত্যার প্রধান আসামিকে ১ বছরের অন্তর্বর্তী জামিন, কাঠগড়ায় বিচারপতি

গ্রেফতার শেখ শাহজাহান, ৫৬ দিন পর পুলিশের জালে সন্দেশখালিকাণ্ডের ‘মাস্টারমাইন্ড’

সূত্রের খবর, গতকাল দুপুরের পর থেকে শেখ শাহজাহানের টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করেই শুরু হয় তল্লাশি।

গ্রেফতার শেখ শাহজাহান, ৫৬ দিন পর পুলিশের জালে সন্দেশখালিকাণ্ডের ‘মাস্টারমাইন্ড’

শেষ আপডেট: 29 February 2024 08:53

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৫৬ দিনের টালবাহানা শেষ। অবশেষে পুলিশের জালে সন্দেশখালির ত্রাস শেখ শাহজাহান। স্থানীয় সূত্রে খবর বুধবার গভীর রাতে সন্দেশখালির  রাজবাড়িতে গোপন আস্তানা থেকে শাহজাহানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারপর তাঁকে নিরাপত্তার কারণে মিনাখাঁ থানায় নিয়ে আসা হয়। যদিও সরকারি ভাবে পুলিশ জানায় শেখ শাহজাহানকে তারা মিনাখাঁ থানা এলাকার একটি ভেরি থেকে গ্রেফতার করেছে।

সূত্রের খবর, গতকাল দুপুরের পর থেকে শেখ শাহজাহানের টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করেই শুরু হয় তল্লাশি। রাতের দিকে  বিশাল পুলিশ বাহিনী দিয়ে ঘিরে ফেলা হয় এলাকা। তারপর গ্রেফতার করা হয় শেখ শাহজাহানকে। সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার ভোররাতে তাঁকে বসিরহাট আদালতের কোর্ট লকআপে নিয়ে আসা হয়েছে। আজ দুপুরে শাহজাহানকে বসিরহাট মহকুমা আদালতের মুখ্য বিচারকের এজলাসে পেশ করা হবে।

গত রবিবার প্রকাশ্যে দাঁড়িয়ে তৃণমূলের সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “কোথাও কোনও সংশয় রাখবেন না, যে শাহজাহানকে আড়াল করা হচ্ছ। শাহজাহানকে যদি কেউ আড়াল করে, তাহলে সেটা জুডিশিয়ারি ডিপার্টমেন্ট।”  এরপর তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ জানান, আগামী সাত দিনের মধ্যেই গ্রেফতার হবেন শাহজাহান। দল সাত দিনের ডেটলাইন দিয়েছিল, তিন দিনের মাথায় গ্রেফতার হলেন সন্দেশখালির বেতাজ বাদশা।

শাহজাহানকে গ্রেফতার করার ব্যাপারে গত বুধবারই বড় দাবি করেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।  তাঁর দাবি ছিল, মঙ্গলবার রাতেই নাকি পুলিশ হেফাজতে নিয়ে ফেলেছে শাহজাহানকে। তাকে হেফাজতে নেওয়ার ক্ষেত্রে মিডলম্যান তথা মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছেন এক প্রভাবশালী। তাঁর আরও দাবি ছিল, শাহজাহান পুলিশ ও সরকারের সঙ্গে দরকষাকষি করেছে। পুলিশ এবং বিচার বিভাগীয় হেফাজতে থাকাকালীন তার যথাযথ যত্ন নেওয়া হবে, এই আশ্বাস পাওয়ার পরই শাহজাহান পুলিশের সঙ্গে সমঝোতা করেছে। তাকে জেলে পাঁচতারা সুবিধা দেওয়া হবে। মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবে। যাতে জেলে বসে নিচুতলায় অপারেট করতে পারে। শুভেন্দুর এও দাবি, এসএসকেএম হাসপাতালের উডবার্ন ওয়ার্ডের একটি বেড শাহজাহানের জন্য খালি রাখা হবে, যাতে সে সেখানে কিছু সময় কাটাতে পারে।

ক্ষোভের আগুনে জ্বলছিল সন্দেশখালি। শেখ শাহজাহান কবে গ্রেফতার হবেন, এই প্রশ্নই ছিল লোকজনের মুখে মুখে। এই প্রেক্ষাপটে কলকাতা হাইকোর্ট জানিয়ে দিয়েছিল, সিবিআই, ইডি বা রাজ্য পুলিশ, যে কেউ গ্রেফতার করতে পারবে সন্দেশখালির কুখ্যাত নেতাকে। হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম বলেছিলেন, শেখ শাহজাহানকে গ্রেফতার করার ক্ষেত্রে আদালতের কোনও স্থগিতাদেশ নেই। অবশেষে বৃহস্পতিবার ভোরে সন্দেশখালির 'বেতাজ বাদশা'কে গ্রেফতার করল পুলিশ। 

২০২০ সাল থেকে ২০২৩-এর মধ্যে শাহজাহানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় তাঁর বিরুদ্ধে ১৬টি জমি দখল, ১৩টি খুন অথবা খুনের চেষ্টা, ৫টি ধর্ষণ এবং ১৭টি অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ হয়েছে। কিন্তু, একটি অভিযোগেরও এফআইআর হয়নি। গত ৫ জানুয়ারি রেশন দুর্নীতি মামলায় সন্দেশখালিতে শাহজাহানের বাড়িতে তল্লাশিতে গিয়েছিল ইডি। সেই সময়েই স্থানীয়দের হাতে মার খেয়ে পালিয়ে আসতে হয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার আধিকারিকদের। সেদিন বাংলা এক বেনজির ঘটনার সাক্ষী থেকেছিল। অভিযোগ ওঠে. শেখ শাহজাহানের বাড়ির দরজার তালা ভাঙার চেষ্টা করতেই হাজার হাজার মহিলা পুরুষ  ইডি-র দিকে তেড়ে এসেছিলেন লাঠি, বাঁশ, লোহার রড হাতে। সেদিন ইডি আধিকারিকদের মার খেতে হয়েছিল। মাথা ফেটেছিল দুই ইডি আধিকারিকের। তখন থেকেই শেখ শাহাজাহান বেপাত্তা। 

তার পর শাহজাহান অনুগামীদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ তুলে পথে নামের সন্দেশখালির একাংশ বাসিন্দা। সংগঠিত হন গ্রামের মহিলারা। নারী নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। কার্যত গণরোষের মুখেই শাহজাহান-ঘনিষ্ঠ দুই নেতা উত্তম সর্দার এবং শিবপ্রসাদ হাজরা ওরফে শিবুকে গ্রেফতার করে পুলিশ।


```