দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক টাকার মানহানির মামলায় জড়িয়ে পড়লেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। সঙ্গে দোসর হলেন সি পি আই(এম)–এর সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি। মামলাকারী আরএসএস সদস্য।
নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে তত রাজনৈতিক দলগুলির আক্রমণ ও প্রতি আক্রমণের ঝাঁজ বেড়ে চলেছে পাল্লা দিয়ে। মেঠো বক্তৃতা থেকে আইন আদালত– লড়াই শুরু হয়ে গিয়েছে সর্বত্র। কেউ কাউকে এক ইঞ্চি জমি বিনা যুদ্ধে ছেড়ে দিতে রাজি নয়। প্রয়োজনে টেনে আনা হচ্ছে দেড়–দু বছর আগের কার্যকলাপ এমনকী মন্তব্যকেও। ২০১৭ সালে বেঙ্গালুরুতে গৌরী লঙ্কেশের খুন প্রসঙ্গে রাহুল গান্ধী ও সীতারাম ইয়েচুরির মন্তব্য নিয়ে মানহানির মামলা করল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের এক সদস্য।
২০১৭ সালে সাংবাদিক গৌরী লঙ্কেশ দুষ্কৃতীদের হাতে খুন হওযার পর রাহুল গান্ধী একটি টুইট করে বলেন ''যাঁরাই আরএসএস/বিজেপি'র বিরুদ্ধে কথা বলবেন তাঁরাই আক্রান্ত হবেন এমনকী খুনও হয়ে যেতে পারেন। ওরা একটি মাত্র ভাবধারা চাপিয়ে দিতে চায় যা ভারতীয় চরিত্রের বিরোধী।'' সীতারাম ইয়েচুরিও একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন যদিও তদন্তকারী সংস্থা এখনও পর্যন্ত অভিযুক্ত দুই দলের সঙ্গে গৌরী লঙ্কেশ খুনের কোনও নিশ্চিত যোগসাজশের প্রমাণ পায়নি। এই দুই মন্তব্যের প্রসঙ্গেই আরএসএস–এর সদস্য থানে নিবাসী বিবেক চম্পানারকার বিরোধী দলের দুই নেতার বিরুদ্ধে এক টাকার মানহানির মামলা করলেন থানে আদালতে। মামলাকারীর পক্ষে আইনজীবী আদিত্য তেওয়ারী আদালতে বলেন, তাঁদের দাবি গৌরী লঙ্কেশের খুন সম্পর্কিত কোনও বিষয়ে এই দুই ব্যক্তি ও তাদের দলের কর্মীরা আরএসএস–এর প্রসঙ্গ আনতে পারবেন না। ''আরএসএস একটি সামাজিক সংগঠন যে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে এই সব মন্তব্যে। সেই কারণেই আমরা সামান্য ক্ষতিপূরণ দাবি করেছি শুধু মাত্র অভিযুক্তদের এটা বোঝাবার জন্য যে আরএসএস–কে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা যেন কেউ না করে।''
মামলাটির পক্ষে সওয়াল করার সময় আরএসএস সদস্যের আইনজীবী বলেন এখনও পর্যন্ত কোনও বিচারবিভাগীয় তদন্তে গৌরী লঙ্কেশের খুনের সঙ্গে আরএসএস–এর যোগাযোগের কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সুতরাং এই ব্যক্তিরা শুধুমাত্র আরএসএস–এর ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্যই এই মন্তব্য করেছেন। আরএসএস সদস্যের আইনজীবীর বক্তব্য শুনে বিচারক এস এম ভাটিয়া, রাহুল গান্ধী ও সীতারাম ইয়েচুরির বিরুদ্ধে শমন জারি করে ৩০ এপ্রিল দু'জনকেই আদালতে হাজির হবার নির্দেশ দেন। উল্লেখ্য, এর আগেও একই মন্তব্যের কারণে এই দুই বিরোধী নেতার বিরুদ্ধে মুম্বাই আদালত শমন জারি করেছিল। সেই শমন রাহুল গান্ধী বা ইয়েচুরি না পাওয়ায় মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে ৫ এপ্রিল।