দ্য ওয়াল ব্য়ুরো: আরএন টেগোর হাসপাল কর্তৃপক্ষকে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতি পূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিল ক্রেতা সুরক্ষা দফতর। অভিযোগ, আজ থেকে ছ'বছর আগে এক রোগীর অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার করেছিলেন তাঁরা। যে কারণে মৃত্যু হয়েছিল ওই রোগীর।
সূত্রের খবর, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন রঞ্জন শীল। ২০১৩ সালে, চিকিৎসকদের পরামর্শে ওপেন হার্ট সার্জারি করাতে হয় তাঁর। বাইপাসের ধারে আরএন টেগোর হাসপাতালে অস্ত্রোপচারটি করা হয়। তাৎক্ষণিক ভাবে অস্ত্রোপচার সফল হলেও, কয়েক দিন পরে ফের হার্টের সমস্যা দেখা দেয় তাঁর।
চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে জানান, ছোটো একটি অপারেশন প্রয়োজন। তিনটে ছোটো ফুটো করে জল বার করলে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। তিন ঘণ্টার ব্যাপার, তাতেই সুস্থ হয়ে যাবেন রোগী। অস্ত্রোপচারটি এতই মামুলি, যে এতে তেমন কোনও ঝুঁকি নেই বলেই দাবি করেন আরএন টেগোরের চিকিৎসকেরা।
কিন্তু রঞ্জনবাবুর পারিবারিক সূত্রের খবর, রোগী নিজের পায়ে হেঁটে অপারেশন থিয়েটারে ঢুকলেও, অপারেশন শেষ হওয়ার পরে তাঁর অবস্থা আচমকা আশঙ্কাজনক হয়ে দাঁড়ায়। তাঁকে আইসিইউ-তে রাখা হয়। রঞ্জনবাবুর স্ত্রী অনিতাদেবীর অভিযোগ, প্রতিদিন স্বাস্থ্যের অবনতি হতে থাকে তাঁর স্বামীর। এই সময়টায় চিকিৎসকেরাও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করেননি বলে দাবি তাঁর।
২০১৩ সালের ১১ নভেম্বর মারা যায় ৫০ বছরের রঞ্জন শীল। হাসপাতালের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ দায়ের করেন অনিতাদেবী। ফল না পেয়ে, দু'বছর পরে, ২০১৫ সালে ক্রেতা সুরক্ষা দফতরে যান তিনি। অভিযোগ করেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার করেন জোর করে। সেই কারণে মারা গিয়েছেন তাঁর দ্বামী।
অনিতাদেবীর অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের হয় মামলা। দীর্ঘ চার বছর ধরে মামলা চলার পরে, অবশেষে মঙ্গলবার এই বিষয়ে রায় দিল আদালত।
মঙ্গলবার ক্রেতা সুরক্ষা আদালতের তরফে জানানো হয়, চিকিৎসায় গাফিলতি এবং অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের দরুণ রঞ্জনবাবুর মৃত্যু হওয়ার কারণ, আরএন টেগোর কর্তৃপক্ষকে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে অনিতাদেবীকে।
রায় ঘোষণার পরে অনিতাদেবী বলেন, "আমরা যে সঠিক অভিযোগ করেছিলাম, তা এত দিনে প্রমাণিত হলো। আর যেন কারও সঙ্গে এমন না হয়।"