জেলার পর ব্লক নয়, এবার ফ্রন্টাল। অর্থাৎ তৃণমূল কংগ্রেসের যে সব ফ্রন্টাল অর্গানাইজেশন রয়েছে, যেমন তৃণমূল ছাত্র পরিষদ, যুব, শ্রমিক, সংখ্যালঘু বিষয়ক ইত্যাদি সংগঠনে খুব শিগগির রদবদল হতে পারে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 7 June 2025 17:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জেলার পর ব্লক নয়, এবার ফ্রন্টাল (TMC Frontal Organizations)। অর্থাৎ তৃণমূল কংগ্রেসের যে সব ফ্রন্টাল অর্গানাইজেশন রয়েছে, যেমন তৃণমূল ছাত্র পরিষদ, যুব, শ্রমিক, সংখ্যালঘু বিষয়ক ইত্যাদি সংগঠনে খুব শিগগির রদবদল হতে পারে।
মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে তৃণমূলের জেলা সংগঠনে এক প্রস্ত রদবদল হয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) জানিয়েছিলেন, এর পর ব্লক ও টাউন স্তরে দলীয় সংগঠনের নতুন তালিকা বেরোবে।
কিন্তু সূত্রের খবর, সব ব্যকরণ মেনে সম্ভব হচ্ছে না। কারণ, ব্লকের তালিকা এখনও নাকি চূড়ান্ত হয়নি। অপারেশন সিঁদুর পরবর্তী অধ্যায়ে অভিষেক যখন বিদেশে কূটনৈতিক দ্যৌত্যে সামিল, ঠিক সে সময়ে একবার নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সঙ্গে দেখা করেছিলেন রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী। সম্ভবত সেদিনই ‘বক্সী দা’-কে দিদি জানিয়ে দেন, ব্লকে সভাপতি বদলের ব্যাপারে পার্টি অফিসে যে সুপারিশের চিঠিগুলো এসেছে তিনি যে আই প্যাকের প্রতীক জৈন ও মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে পাঠিয়ে দেন। তার পর সে সব মিলিয়ে দেখে তিনি ব্লকের তালিকা ফাইনাল করবেন। তাই ব্লকের তালিকা প্রকাশের আগে ফ্রন্টাল অর্গানাইজেশনে রদবদল হয়ে যেতে পারে।
তৃণমূলের ছাত্র ও যুব সংগঠনের নতুন নেতা কারা?
তৃণমূল কংগ্রেসে ফ্রন্টাল অর্গানাইজেশনগুলোতে (TMC Frontal Organizations) সম্ভাব্য রদবদল নিয়ে দলের মধ্যেই চরম কৌতূহল ও জল্পনা রয়েছে। সেই জল্পনার ধরন এরকম— কেউ বলছেন যুব সংগঠনের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে জয়া দত্ত বা দেবরাজ চক্রবর্তীকে। কেউ আবার বলছেন, ‘না দেবরাজ হচ্ছেন না, জয়া বা তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যের মধ্যে একজন হবেন’। কিন্তু ঘটনা হল, দিদি বা অভিষেকের মনে কী আছে, এ ব্যাপারে এঁদের হয়তো কোনও ধারণাই নেই।
তবে একটা ব্যাপার অনেকে ধরেই নিয়েছেন। তা হল, দলের যুব সংগঠনের সভানেত্রী পদ থেকে সায়নী ঘোষকে সরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারটা অনিবার্যভাবেই ঘটতে চলেছে। ইদানীং সায়নী পার্টি অফিসে খুব একটা যান না। এমনকি পার্টি অফিসে তাঁর ঘরে বেশ কিছু চিঠি জমেছে। সূত্রের খবর, সেই সব চিঠি তাঁর বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হবে কিনা জানতে চেয়ে দলের এক নেতা তাঁকে ফোন করলে নাকি সায়নী বলেছেন, না থাক- নতুন যে আসবে, সেই না হয় দেখবে।
তৃণমূল ছাত্র পরিষদের পারফরমেন্স নিয়ে দলের প্রবীণ নেতাদের অনেকের মনেই অসন্তোষ রয়েছে। বিশেষ করে আরজি কর পর্বে সেটা কিছু বেআব্রু হয়ে গেছিল বলেও তাঁদের মত। এ ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি ভোকাল ছিলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
কালীঘাটের ঘনিষ্ঠ এক নেতা শনিবার বলেন, ছাব্বিশের ভোটের আগে ফ্রন্টাল অর্গানাইজেশনগুলোতে কিছু বদল তো হবেই। একটা সময়ে ঠিক ছিল, মহিলা সংগঠনের সভানেত্রী পদে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য থেকে যাবেন। বাকি সব ফ্রন্টাল অর্গানাইজেশনে বদল হবে। এমনকি শ্রমিক সংগঠনের রাজ্য সভাপতির পদ থেকে সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরিয়ে দিলে বিষ্ময়ের কোনও ব্যাপার নেই। এখন দেখার চূড়ান্ত তালিকায় শেষমেশ কী থাকে!