দ্য ওয়াল ব্যুরো : কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী খুব স্পষ্ট ভাষায় দলকে জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি পদত্যাগ করছেনই। দল অন্য কাউকে সভাপতি হিসাবে বেছে নিক। তবে তাঁর মা সনিয়া গান্ধী বা বোন প্রিয়ঙ্কাকে যেন ওই পদে না বাছা হয়। এই অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে রাহুলের বাড়িতে গেলেন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়ঙ্কা গান্ধী। কেন তিনি দাদার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা।
এদিন প্রিয়ঙ্কার সঙ্গে রাহুলের ১২ নম্বর তুঘলক রোডের বাড়িতে যান রাজস্থানের উপ মুখ্যমন্ত্রী শচীন পাইলট এবং কংগ্রেসের মুখপাত্র রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা। একটি মহল থেকে শোনা যাচ্ছে, কংগ্রেসের পরবর্তী সভাপতি স্থির করতে আগামী তিন-চার দিনের মধ্যে বৈঠকে বসতে পারে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি। যদিও কংগ্রেস থেকে তেমন সম্ভাবনার কথা উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কংগ্রেসের সাংগঠনিক দায়িত্বে থাকা সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল বলেন, আপাতত ওয়ার্কিং কমিটি বসার সম্ভাবনা নেই।
https://twitter.com/ANI/status/1133243669518082048
সোমবার কংগ্রেসের কোষাধ্যক্ষ আহমেদ পটেল ও কে সি বেণুগোপাল রাহুলের সঙ্গে দেখা করেন। পটেল অবশ্য জানান, দলের সাংগঠনিক বিষয়ে আলোচনার জন্য তিনি সভাপতির সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিলেন। তিনি টুইটারে লেখেন, রুটিনমাফিক সাংগঠনিক বিষয়ে কথা বলার জন্য আমি সভাপতির সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। ওয়ার্কিং কমিটি আমাকে সোমবার রাহুলের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দিয়েছে। এই নিয়ে জল্পনা-কল্পনা করা অনুচিত।
লোকসভা ভোটে দলের খারাপ ফলের দায় স্বীকার করে সোমবার আরও তিনজন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি পদত্যাগ করেছেন। তাঁরা হলেন পাঞ্জাবের সুনীল জাখর, ঝাড়খণ্ডের অজয় কুমার এবং অসমের রিপুন বরা। গত ডিসেম্বরে কর্ণাটকে কংগ্রেসের প্রচার অভিযান চালানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এইচ কে পাটিলকে। তিনিও ইস্তফা দিয়েছেন।
এই নিয়ে মোট ছ’জন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ইস্তফা দিলেন। ভোটের ফল বেরোনর পরেই যাঁরা ইস্তফা দিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে আছেন উত্তরপ্রদেশের রাজ বব্বর, ওড়িশার নিরঞ্জন প্রামাণিক ও মহারাষ্ট্রের অশোক চহ্বণ।
এবার লোকসভায় মাত্র ৫২ টি আসন পেয়েছে কংগ্রেস। তার প্রধান প্রতিপক্ষ বিজেপি পেয়েছে ৩০৩ টি। এনডিএ পেয়েছে ৩৫২ টি আসন। ২০১৪ সালে এর চেয়েও কম আসন পেয়েছিল রাহুলের দল। সেবার তারা মাত্র ৪৪ টি আসনে জয়লাভ করে। এবার তাদের আসন বেড়েছে মাত্র আটটি।