দ্য ওয়াল ব্যুরো: সারা দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেতন পান তিনি। অথচ কর দেওয়ার পরে হাতে যা থাকে, তা একজন শিক্ষকের মাসমাইনের চেয়েও কম! এমনটাই জানালেন খোদ রাষ্ট্রপতি।
রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের গ্রাম উত্তরপ্রদেশের কানপুর দেহাতের পরাউঙ্খ গ্রামে। সেখানেই তাঁর জন্মভিটে। সম্প্রতি সেখানে গিয়েছেন রাষ্ট্রপতি, এই প্রথম বারের জন্য। তিনি গিয়েছেন ট্রেনে চড়ে। দেশের প্রয়াত প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এপিজে আব্দুল কালামের পরে তিনিই প্রথম রাষ্ট্রপতি, যিনি ট্রেনে সফর করলেন।
গ্রামে গিয়েই নানা কথা বলেন তিনি। যেন রাষ্ট্রপতি নন, মাটির মানুষটি। আসলে দেশের অন্যতম ভিভিআইপি বিমান এয়ার ইন্ডিয়া ওয়ান তাঁর জন্য বরাদ্দ থাকলেও, রাইসিনা হিলসে কড়া নিরাপত্তা বলয় সর্বদা তাঁকে মুড়ে রাখলেও, রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের শিকড় আদতে গ্রামেই। তাই সেখানে পৌঁছে সেখানকার সঙ্গেই মিশে যেতে পারেন তিনি।
নিজের বেতন প্রসঙ্গে রামনাথ সেখানে বলেন, "দেশের রাষ্ট্রপতিই সর্বাধিক বেতন পেয়ে থাকেন। আমিও ব্যতিক্রম নই, মাসে ৫ লক্ষ টাকা বেতন পাই। তবে এর থেকে কর হিসেবেই চলে যায় ৩ লক্ষ টাকা। তাহলে বলুন আর কতটা বাকি থাকে? এর থেকে তো আমাদের আধিকারিকরা এবং অন্যান্য লোকেরা বেশি বেতন পেয়ে থাকেন। এখন একজন শিক্ষকও এর থেকে বেশি বেতন পেয়ে থাকেন। অথচ আমার বেতনের বেশিটাই বেরিয়ে যায় ট্যাক্সে, যা দেশের মানুষেরই উন্নতির কাজে লাগে।"
গত পরশু, ২৫ শে জুন দিল্লির সফদারগঞ্জ স্টেশন থেকে জন্মভিটের উদ্দেশ্যে রওনা দেন রাষ্ট্রপতি। শুক্রবার সন্ধ্যে ৬টায় কানপুরের দেহাত জেলার ঝিঝাক স্টেশনে ট্রেনে করে পৌঁছন তিনি। গ্রামের মাটিতে পা রেখেই তিনি বলেন, "আপনাদের সকলের আশীর্বাদ নিতে আমি এখানে এসেছি।"
নিজের গ্রামের মাটিতে দাঁড়িয়ে রামনাথ বলেন, "আমি কিন্তু আপনাদের থেকে কখনই দূরে নেই। কিছু বিধিবিধানের কারণে আমাকে আপনাদের থেকে দূরে থাকতে হয়। তবে আপনারা সর্বদাই আমায় আপনাদের অভিযোগ, দাবি জানাতে পারেন। এই রেল স্টেশনের সঙ্গে জড়িত প্রতিটি কথা আমার মনে আছে। অনেকেই বলেন আগে এখানে ট্রেন থামত, কিন্তু এখন আর থামে না। এটা করোনার কারণেও হতে পারে। আস্তে আস্তে সব ঠিক হয়ে যাবে।"