দ্য ওয়াল ব্যুরো: বছর তিনেক আগে অভিযোগ উঠেছিল, নেসলের জনপ্রিয় খাবার ম্যাগিতে, সিসা আছে। এই নিয়ে কম তোলপাড় হয়নি। একটা সময়ে বাজারে প্রায় বন্ধই হয়ে গিয়েছিল ম্যাগি বিক্রি। পরে নতুন করে ফের শুরু হয়েছে বিক্রি। এরই মধ্যে আবার প্রকাশ্যে এল বিস্ফোরক তথ্য। একটি মামলার শুনানিতে, বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালতে নেসলের পক্ষ থেকে স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে, ম্যাগিতে সিসা রয়েছে। এর ফলে আবারও নতুন করে প্রশ্ন চিহ্নের মুখে পড়ে গেল ম্যাগির খাদ্য সুরক্ষা।
সূত্রের খবর, ক্রেতাসুরক্ষা দফতরের রুজু করা ওই মামলার শুনানি চলাকালীন শীর্ষ আদালতের আইনজীবী প্রশ্ন করেছিলেন এটাতে কী সিসা রয়েছে? তখনই নেসলের আইনজীবী জানান, সিসা থাকলেও সেটি নিরাপদ সীমার মধ্যেই রয়েছে। তাতে কারও ক্ষতির সম্ভাবনা নেই। অর্থাৎ সিসার অস্তিত্বের কথা স্বীকার করে নেন তিনি। এর পরেই মামলার শুনানির ওপর থেকে স্থগিতাদেশ তুলে নেয় সর্বোচ্চ আদালত।
২০১৫ সালে নেসলের বিরুদ্ধে ক্রেতাসুরক্ষা আইন ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছিল ক্রেতাসুরক্ষা দফতর। অভিযোগ ছিল, ম্যাগির মোড়কে ভুল তথ্যের উল্লেখ করেছে নেসলে। প্রোডাক্টে সীসা থাকার অভিযোগ উঠেছিল। ক্রেতাসুরক্ষা দফতরের তরফে জানানো হয়, ম্যাগিকে একটি স্বাস্থ্যকর খাবার বলে প্রচার করত নেসলে। যা খুব বড় মিথ্যে। ম্যাগিতে মাত্রাতিরিক্ত সীসা ও মনোসোডিয়াম গ্লুকামেট রয়েছে। যা গোপন করে গিয়েছিল সংস্থা। নেসলকে ৬৪০ কোটি টাকার জরিমানাও করেছিল ক্রেতাসুরক্ষা দফতর। এর পরেই বাজার থেকে সমস্ত ম্যাগি তুলে নিতে বাধ্য হয় সংশ্লিষ্ট সংস্থা। তবে সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতেও গিয়েছিল নেসলে।
তারই শুনানিতে ফের বেরিয়ে এল বিস্ফোরক তথ্য। সন্দেহের মুখে পড়ল ম্যাগি খাওয়ার নিরাপত্তা। সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছেই ম্যাগি অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি খাদ্য। শিশু থেকে বৃদ্ধ সকলেই ম্যাগি খান। তাঁদের শরীরে অত্যন্ত খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে এই সিসা।