পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার রাতে নির্দিষ্ট সূত্র মারফত খবর আসে যে, ওই এলাকায় গরু পাচারের উদ্দেশে কয়েকজন সক্রিয়ভাবে সীমান্তের কাছে ঘোরাফেরা করছে। খবর পাওয়ার পরই রঘুনাথগঞ্জ থানার একটি বিশেষ দল দ্রুত সেকেন্দ্রা ঘোষপাড়া এলাকায় পৌঁছয়।

ধৃত দুই যুবক
শেষ আপডেট: 6 February 2026 11:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত–বাংলাদেশ সীমান্ত (Indo-Bangladesh Border) থেকে ফের গ্রেফতার বাংলাদেশি (Bangladeshi Arrest)। গরু পাচার রুখতে ইতিমধ্যেই সীমান্তবর্তী এলাকায় কড়া অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। তার জেরেই বুধবার গভীর রাতে মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) রঘুনাথগঞ্জ থানার সেকেন্দ্রা ঘোষপাড়া এলাকা থেকে দুই বাংলাদেশি যুবক ধরা পড়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের নাম মহম্মদ বাবু ও মহম্মদ সুমন। জানা গেছে, সীমান্তবর্তী এলাকায় গরু পাচারের (Cattle Smuggle) একটি বড়সড় ছক তৈরি হয়েছে, এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযান চালানো হয়। আর তাতেই পাকড়াও হয়েছে এই দুই বাংলাদেশি যুবক।
পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার রাতে নির্দিষ্ট সূত্র মারফত খবর আসে যে, ওই এলাকায় গরু পাচারের উদ্দেশে কয়েকজন সক্রিয়ভাবে সীমান্তের কাছে ঘোরাফেরা করছে। খবর পাওয়ার পরই রঘুনাথগঞ্জ থানার একটি বিশেষ দল দ্রুত সেকেন্দ্রা ঘোষপাড়া এলাকায় পৌঁছয়। নজরদারির সময় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখে দুই যুবককে আটক করা হয়। তাদের আচরণ ও কথাবার্তায় অসংগতি ধরা পড়ায় পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।
প্রাথমিক জেরায় ধৃতরা নিজেদের পরিচয় স্পষ্টভাবে দিতে না পারলেও, পরে জানা যায় তারা বাংলাদেশের বাসিন্দা। দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ নিশ্চিত হয়, দু’জনেরই বাড়ি বাংলাদেশের চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার দেবীপুর এলাকায়। পুলিশের দাবি, জেরার এক পর্যায়ে ধৃতরা স্বীকার করে নেয় যে তারা একটি সক্রিয় গরু পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত এবং সেই কারণেই সীমান্ত এলাকায় অবস্থান করছিল।
এই ঘটনার পর পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ধৃতদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট আইনি ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। শুধু এই দুই যুবক নয়, এই পাচারচক্রের সঙ্গে ভারত ও বাংলাদেশের দুই পারে আর কারা যুক্ত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই তদন্তের স্বার্থে একাধিক সম্ভাব্য যোগসূত্র খোঁজা শুরু হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
শুক্রবার ধৃতদের জঙ্গিপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হবে। তদন্ত আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য পুলিশ নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাতে পারে। এই ঘটনার পর সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। টহল বাড়ানো হয়েছে, পাশাপাশি নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে একাধিক স্পর্শকাতর এলাকা।
পুলিশের এক আধিকারিকের কথায়, “সীমান্ত এলাকায় গরু পাচার রুখতে আমরা সবসময় কড়া অবস্থানই নেব। এই চক্র ভাঙতেই ধারাবাহিক অভিযান চালানো হবে।” প্রশাসনের এই কড়া অবস্থানে সীমান্ত এলাকায় পাচারকারীদের মধ্যে নতুন করে চাপ বাড়ছে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।