
বাবার সঙ্গে রাজেশ্বরী (ছবি - সৌমদীপ সেন, গঙ্গাসাগর)
শেষ আপডেট: 15 January 2025 20:27
স্বপ্নের দুনিয়া খোলা আকাশের মতো। অন্তহীন। শুধু লড়াই জারি রাখার সাহস আর মানসিকতা দরকার। তাহলে যে কোনও স্বপ্ন সত্যি হওয়া সম্ভব। রাজেশ্বরী ভারতীর পুঁজি হয়তো এই শব্দবন্ধগুলিই। তাই তো অনেক বাধা এবং জটিলতার জাল ছিঁড়ে সে একদিন আইএএস অফিসার হতে চায়।
গঙ্গাসাগর মেলায় কোটি পুণ্যার্থীর ভিড় হয়েছে চলতি বছর। ভক্তরা তো রয়েছেই, তাঁদের সঙ্গে সাধু, সন্ন্যাসীদের সংখ্যাও অঢেল। তবে সকলের মধ্যে রাজেশ্বরী যেন আলোর মতো ফুটে উঠেছে। সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে উঠে সাফল্যের শিখরে পৌঁছতে চায় সে। তরুণীর কাহিনি যে কোনও মানুষের কাছে অনুপ্রেরণা হতে পারে।
হিমাচল প্রদেশের কাংড়া জেলার বাসিন্দা রাজেশ্বরী ইন্দিরা গান্ধী রাষ্ট্রীয় মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় বা ইগনুতে ইতিহাস (বিএ) নিয়ে পড়াশোনা করত। ২০১১ থেকে বাবার সঙ্গে প্রায় প্রতি বছর আসত গঙ্গাসাগরে। এবছরও এসেছে। তবে গত বছর রাজেশ্বরীর জীবন বদলে যায় পুরোপুরি।
জুন মাসে এক পথদুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছিল সে। তারপর থেকে রাজেশ্বরী ঠিকভাবে হাঁটতে-চলতে বা উঠতে-বসতে পারে না। তবে যে স্বপ্ন সে দেখে এসেছে এত বছর ধরে তা যে করে হোক পূরণ করতে চায়। আইএএস হওয়ার স্বপ্ন তাঁর রয়েই গেছে।
রাজেশ্বরী বলছে, 'আমি পড়ব। স্বপ্ন তো পূরণ করতেই হবে।' তবে এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য সরকারের কোনও সাহায্য চায় না সে। তাঁর কথায়, 'আমি যেমন আছি, ঠিক আছি। ভগবানের কৃপায় বেঁচে আছি। কিছু চাওয়ার নেই সরকারের থেকে।' তরুণীর বাবাও কথাও এক। তিনি বলছেন, 'আমরা কিছু চাই না। আমাদের পরিস্থিতি দেখে যদি সরকার কোনও সাহায্য করে তাহলে ঠিক আছে। কিন্তু আমরা কিছু চাইব না। শুধু চাই মেয়ে আবার নিজের পায়ে দাঁড়াক, ব্যস।'
২০২৪-এর জুন মাসের পর থেকে রাজেশ্বরীর জীবন আর এক নেই। এখন প্রতি পদেই বাধার মুখে পড়তে হয় তাঁকে। হাত-পা কাঁপে, বেশিক্ষণ কিছু মনে রাখতে পারে না। রোজকারের সাধারণ কাজ করতেও তাঁর সাহায্যের প্রয়োজন। কিন্তু বাবার কাছে থাকাটাই তাঁর মূল লক্ষ্য হয়ে উঠেছে। তাই তো শত বাধার পরও সে এবারও গঙ্গাসাগরে এসেছে শুধুমাত্র বাবার পাশে থাকতে।
কথায় বলে, সব তীর্থ বারবার, গঙ্গসাগর একবার। রাজেশ্বরীর মতো মানুষই হয়তো বারবার আসতে বাধ্য করে পূণ্যস্নানে। ছোট্ট একটি মেয়ের অদম্য জেদ আর লড়াই দেখেই তো পূণ্য লাভ করা যায়। রাজেশ্বরী আরও বাধ্য করে তাঁকে কুর্ণিশ জানাতে যখন সে অবলীলায় বলে, 'বাবার নাম উজ্জ্বল করতে চাই। যাতে লোকে বলে, রাজেশ্বরী তো ওঁর মেয়ে...'