পরিবারের অভিযোগ, বুকিংয়ের সময় বা আগেও কখনও এই ফি সম্পর্কে কোনও তথ্য জানানো হয়নি।

কলকাতা বিমানবন্দর
শেষ আপডেট: 9 June 2025 15:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতা (Kolkata) থেকে আহমেদাবাদগামী এক ফ্লাইটে সফরের আগে বিমান সংস্থার গ্রাউন্ড স্টাফের অস্বাভাবিক ও অমানবিক আচরণের শিকার দুই বোন। ছোট মাহিরা ৯ বছরের এবং মান্যতার বয়স ১৭।
বিমান সংস্থার দাবি ছিল, ১৭ বছর বয়সি মান্যতা প্রাপ্তবয়স্ক নয়, কারণ সে এখনও ১৮-তে পা দেয়নি। তাদেরকে মাহিরার জন্য ৫,০০০ টাকা নগদ দিতে বলা হয় ‘অভিভাবকহীন অপ্রাপ্তবয়স্ক’ ফি হিসেবে, না হলে ফ্লাইট মিস করতে হবে তাদের- এমন কথাও বলা হয়।
ঠিক কী ঘটেছিল?
মাহিরা ও মান্যতা তাদের দুই ২১ বছর বয়সি ভাইবোনের সঙ্গে কলকাতা থেকে আহমেদাবাদ ফেরার জন্য আকাসা এয়ারের ফ্লাইটের টিকিট বুক করে। চেক-ইন কাউন্টারে বিমান সংস্থার কর্মীরা তাদেরকে মাহিরার জন্য ‘অভিভাবকহীন অপ্রাপ্তবয়স্ক’ ফি হিসেবে ৫,০০০ টাকা নগদ দিতে বলেন। যদিও তাদের ভাইবোনরা UPI-এর মাধ্যমে টাকা দিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেন, বিমান সংস্থা নগদ ফি ছাড়া অন্য কোনও পদ্ধতি নাকচ করে দেন। কারণ অন্য কাউন্টার তখন বন্ধ হয়ে গেছে। অবশেষে, তারা কোনওরকমে ফি মিটিয়ে বোর্ডিং পাস পান।
পরিবারের অভিযোগ, বুকিংয়ের সময় বা আগেও কখনও এই ফি সম্পর্কে কোনও তথ্য জানানো হয়নি। আকাসা এয়ারের চেক-ইন কাউন্টারে কোনও নথিপত্র বা লিখিত কিছু দেওয়া হয়নি। আহমেদাবাদ বিমানবন্দরে পৌঁছনোর পর, অভিভাবকের পরিচয় যাচাইয়ের কোনও প্রক্রিয়া ছিল না, যা ফি-এর কারণ নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
শালিনী দুগার, ওই দুই বোনের মা, বলেন, ‘আমাদেরকে শুধু বলা হয়েছিল, টাকা দিন, না হলে ফ্লাইট মিস হবে। কোনও ব্যাখ্যা, চার্জের বিশদ বিবরণ বা রসিদ দেওয়া হয়নি, যতক্ষণ না আমার বড় মেয়ে জোর করে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যদি ফি-এর কথা আগে বলা হতো, তাহলে তো আমরা আপত্তি করতাম না। কিন্তু আমরা বিস্তারিত ক্ষমা, রিফান্ড এবং সেই কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি করছি, যাঁরা আমার মেয়েদের মানসিক যন্ত্রণা দিয়েছেন।’
উল্লেখ্য, কিছু কিছু বিমান সংস্থা এই ধরনের ফি নিয়ে থাকে, বিশেষত ৫ থেকে ১২ বছরের বাচ্চাদের ক্ষেত্রে। তাদের সঙ্গে কোনও অভিভাবক না থাকলে, বিমান সংস্থার ক্রু তাদের বিশেষ খেয়ার রাখে। সঙ্গে বৈধ অভিভাবক থাকলে তাঁদের নাম, ফোন নম্বর নেয় সংস্থা এবং তা চেক-ও করা হয়।
কিন্তু এই ক্ষেত্রে তেমন কিছুই ঘটেনি বলে অভিযোগ জানিয়েছে ওই পরিবার।