এফআইআরে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, এই সংস্থা বা তাদের কর্মীদের বিরুদ্ধে এর আগেও দু’বার বড় ধরনের হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেছে।

ডায়মন্ড সিটি সাউথে অশান্তি।
শেষ আপডেট: 7 June 2025 12:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দক্ষিণ কলকাতার অভিজাত আবাসন ডায়মন্ড সিটি সাউথে ফের অশান্তির ছায়া। পরিস্থিতি যাতে হাতের বাইরে না যায়, সেই আশঙ্কা থেকে আবাসিকদের অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে হরিদেবপুর থানায় একটি আগাম এফআইআর-ও দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে উঠে এসেছে, সাম্প্রতিক কিছু উদ্বেগজনক ঘটনা, পুরনো ঝামেলার ইতিহাস এবং তার জেরে নিরাপত্তা সংস্থা বদলের সমস্যার কথা।
ডায়মন্ড সিটি সাউথ রেসিডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (DCSRA) পক্ষ থেকে থানায় জমা দেওয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, বর্তমান নিরাপত্তা ও হাউসকিপিং পরিষেবা সংস্থা S&IB Services Pvt. Ltd. ১০ জুন ২০২৫ থেকে তাঁদের চুক্তি বাতিল করছে বলে জানিয়েছে। যদিও চুক্তিভঙ্গের জন্য সংস্থাটিই দায়ী এবং সেটা তারা নিজেরাই মেনে নিয়েছে আগেই। তাও এবার সংস্থা পরিবর্তনের সময়ে আগের মত ধর্মঘট, গোলমাল ও হুমকির আশঙ্কা করছে বাসিন্দারা।
এফআইআরে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, এই সংস্থা বা তাদের কর্মীদের বিরুদ্ধে এর আগেও দু’বার বড় ধরনের হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেছে। ২০২০ সালের জুলাই মাসে কর্তব্যরত অবস্থায় মদ্যপান করার অভিযোগে কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে বিক্ষোভ দেখিয়েছিল তারা। পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ২০২১ সালেও অন্য একটি পরিষেবা সংস্থাকে নিয়োগের সময় আবারও সংঘর্ষ, গেট অবরোধ এবং প্রবেশ আটকে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, আদালতের নির্দেশে পুলিশি নজরদারি বসাতে হয়।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে তখন কলকাতা হাইকোর্ট একটি রুলিং দেয়, যেখানে বলা হয়, বাসিন্দাদের নিরাপত্তা ও চলাফেরার অধিকার রক্ষা করা পুলিশের দায়িত্ব। সেই মামলার রেফারেন্সও সংযুক্ত করে দেওয়া হয়েছে এবারের এফআইআরে।
বস্তুত, এখন পরিস্থিতি আরওই জটিল হয়ে উঠেছে, কারণ S&IB কয়েকজন কর্মীর অবসর নেন কিন্তু সংস্থার তরফে তাঁদের পরিবর্তে কাউকে নিয়োগ করা হয়নি। কিছুদিন তো এমনও গেছে, নিরাপত্তার দায়িত্ব সামলাতে বাসিন্দারাই স্বেচ্ছায় গেটের দায়িত্বে দাঁড়িয়ে থেকেছেন। হাউসকিপিং পরিষেবা বন্ধ থাকায় সাফাই না হওয়ায় স্বাস্থ্যহানির সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছিল।
পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর ছিল যে, আবাসনের পক্ষ থেকে ৪ মে একটি পৃথক অভিযোগও থানায় জমা দেওয়া হয়েছিল।
DCSRA ইতিমধ্যে NIS Management Ltd. নামক একটি নামী সংস্থাকে নতুন নিরাপত্তা ও হাউসকিপিং দায়িত্বে নিযুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। কিন্তু সেই পরিবর্তন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই বাসিন্দারা আতঙ্কিত, আবার যেন ২০২০ বা ২০২১ সালের মত পরিস্থিতি না হয়।
তাই এবার তাঁরা আপাতদৃষ্টিতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে পুলিশ প্রশাসনের কাছে একাধিক অনুরোধ জানিয়েছেন। যেমন, বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হোক, গেটে ঢোকা-বেরোনো যেন ব্যাহত না হয়, জল, বর্জ্য অপসারণ, ইলেকট্রিক ও প্লাম্বিং পরিষেবা যেন বন্ধ না হয়, কোনও ধর্মঘট বা কর্মবিরতি যেন না ঘটে।
ডায়মন্ড সিটির মত এত বড় একটি আবাসনের বাসিন্দারা নিয়মিত পেমেন্ট দিয়ে থাকার পরেও যদি এইরকম নিরাপত্তাহীনতা, ধর্মঘট এবং সংঘর্ষের আশঙ্কায় থাকেন, তাহলে প্রশ্ন ওঠে — নাগরিক জীবনের ন্যূনতম নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায় কি কেবল আবাসন কমিটির?
এই সমস্যার পিছনে ইউনিয়নের চাপ এবং শাসকদলের এক প্রাক্তন সাংসদের মদত রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। ওই প্রাক্তন সাংসদ, শুভাশিস চক্রবর্তীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি, মেসেজেরও উত্তর দেননি।
সব মিলিয়ে, এই ঘটনা এখন আর কেবল একটি আবাসনের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, এটি নাগরিক অধিকার, পরিষেবা, শান্তি-শৃঙ্খলা, সর্বোপরি নৈতিক অবস্থান বজায় রাখার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।