১ লাখের বেশি আধার, প্যান, পাসপোর্টের তথ্য বিক্রির চেষ্টা, আড়ালে এক অভিনেতা, সতর্ক করল সাইবার তদন্ত সংস্থা
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক লাখের উপরে ভারতীয়র বিভিন্ন পরিচয়পত্রের স্ক্যান করা কপি ফাঁস হয়ে যেতে পারে। বিক্রি হয়ে যেতে পারে আধার, প্যান, পাসপোর্টের তথ্য। রয়েছে ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্যও। বুধবার এমনই আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সাইবার ইনটেলিজেন্স ফার্ম 'কাই
শেষ আপডেট: 3 June 2020 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক লাখের উপরে ভারতীয়র বিভিন্ন পরিচয়পত্রের স্ক্যান করা কপি ফাঁস হয়ে যেতে পারে। বিক্রি হয়ে যেতে পারে আধার, প্যান, পাসপোর্টের তথ্য। রয়েছে ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্যও। বুধবার এমনই আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সাইবার ইনটেলিজেন্স ফার্ম 'কাইবেল'। তবে সরকারি ওয়েবসাইট থেকে এই তথ্য ফাঁস হওয়ার ভয় নয়। 'কাইবেল' জানিয়েছে, কোনও থার্ড পার্টি এই কাজ করছে। জানা গিয়েছে, মোট নথির পরিমাণ প্রায় ১০০ গিগাবাইট।
ওই রিপোর্টে 'কাইবেল' দাবি করেছে, ডার্ক নেটের মাধ্যমে এই কাজটি করছেন এক কম পরিচিত মঞ্চ অভিনেতা। ওই অভিনেতার কাছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের এক লাখের বেশি বিভিন্ন রকম জাতীয় পরিচয়পত্র রয়েছে বলে অভিযোগ। এই ধরনের তথ্য জোগাড় করে নানা রকম কুকর্ম করা হয়ে থাকে। আর সেই কারণেই এই তথ্য সংগ্রহ করে তা বিক্রির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে আশঙ্কা। এই তদন্তে নেমে 'কাইবেল' জানতে পেরেছে যে সব পরিচয়পত্রের স্ক্যান করা কপি বিক্রির চেষ্টা চলছে তার সবই ভারতীয়দের। কোনও একটি জায়গার নয়, সেটা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
'কাইবেল' গোটা পৃথিবীর সাইবার দুর্নীতি নিয়ে তদন্ত করে। সাইবার বিশেষজ্ঞ বেণু অরোরার এই সংস্থা অতীতেও অনেক বড় বড় দুর্নীতি ফাঁস করেছে। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের কর্মপ্রার্থীদের তথ্য বিক্রি হচ্ছেও বলেও সম্প্রতি এই সংস্থাই সতর্ক করেছিল। সংস্থার বক্তব্য, এই বার যে অভিনেতা এই কাজ করছেন তিনি এতটাই অল্প পরিচিত যে প্রথমে সেটাকে তাঁরা গুরুত্ব দেননি। কিন্তু তথ্যের পরিমাণ দেখে সন্দেহ হয় যে এটা বড় চক্রান্ত। ওই অভিনেতার দাবি, তাঁর কাছে এমন এক লাখ তথ্য রয়েছে যার পরিমাণ প্রায় ১০০ জিবি। যে পরিমাণ তথ্য রয়েছে বিটকয়েনসের হিসেব তার দাম ৪,৮০০ ডলার হতে পারে।
বেণু অরোরা জানিয়েছে, "আমাদের ধারণা অভিযুক্ত অভিনেতা এই জাল চক্রে নতুন খেলোয়াড়। আমরা সবরকমের খোঁজ খবর নিয়েছি। এখন এই লিকের উৎস জানতে তদন্ত চলছে।" তবে একটা বিষয়ে 'কাইবেল' নিশ্চিত যে সরকারি সিস্টেম থেকে লিক হয়নি। এর মধ্যে কোনও থার্ড পার্টি রয়েছে।
তদন্তে মনে করা হচ্ছে, ওই অভিনেতাকে এমন কোনও সংস্থা এই সব নথি দিয়েছে যারা কেওয়াইসি হিসেবে গ্রাহকদের থেকে পরিচয়পত্র নিয়ে থাকে। সেটা হয়ে থাকলে বড় ভয় রয়েছে। কারণ, তদন্তকারীরা বলছেন কোনও ব্যাঙ্কের থেকে এই তথ্য গিয়ে থাকলে গ্রাহকদের বিপদে ফেলার চেষ্টা করতে পারে জাল চক্র। সেই কারণে, ফোন, ই-মেল বা এসএমএস-এর মাধ্যমে কোনও রকম আর্থিক তথ্য না দেওয়ার ব্যাপারেও সতর্ক করেছে 'কাইবেল'।
গত মে মাসেই 'কাইবেল' দু'টি এমন জাল চক্রের কথা সামনে আনে। যার একটিতে ৭.৬৫ কোটি ভারতীয়র তথ্য ডার্ক ওয়েবে বিক্রি হচ্ছিল। অপরটিতে ৪.৭৫ ভারতীয় তথ্য ছিল। সেই সময়ে জনপ্রিয় অ্যাপ 'ট্রুকলার'-এর বিরুদ্ধেও অভিযোগ ওঠে। যদিও সেই অভিযোগ 'ট্রুকলার' অস্বীকার করে।