
শেষ আপডেট: 12 January 2023 02:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নানা ইস্যুতে পরস্পর বিরোধী অবস্থান নিয়ে থাকা বিজেপি (BJP) ও কংগ্রেস (Congress) আদালতের বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপের (court intervention) অভিযোগ তুলে এক সুরে সরব হল। বুধবার থেকে কংগ্রেস শাসিত রাজস্থানের জয়পুরে শুরু হয়েছে দু’দিনের সর্বভারতীয় স্পিকার সম্মেলন। এই উপলক্ষ্যে সেখানে গিয়েছেন উপরাষ্ট্রপতি তথা রাজ্যসভার চেয়ারম্যান জগদীপ ধনকড়, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং রাজ্য বিধানসভার অধ্যক্ষেরা। সেখানে আদালতের হস্তক্ষেপ নিয়ে ধনকড় ও ওম বিড়লার অভিযোগের সঙ্গে গলা মেলান রাজস্থানের কংগ্রেসি মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট এবং বিধানসভার স্পিকার সিপি যোশীরা।
হালে আদালতের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন আক্রমণ শানিয়েছিলেন উপরাষ্ট্রপতি ধনকড়। রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের চেয়ারে বসে তিনি বলেন, বিচারপতি নিয়োগে ভারত সরকারের তৈরি আইন ‘অসাংবিধানিক’ বলে বাতিল করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। তাঁর প্রশ্ন, ভারতের সংসদের তৈরি আইন কি এভাবে আদালত বাতিল করে দিতে পারে? সংসদের অমর্যাদা করেছে আদালত, মত উপরাষ্ট্রপতি তথা বিশিষ্ট আইনজীবী ধনকড়ের।
তাঁর ওই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করেছিলেন কংগ্রেসের সংসদীয় দলের নেত্রী সনিয়া গান্ধী। তাঁর বক্তব্য ছিল, সাংবিধানিক পদে আসীন ব্যক্তির মুখে আদালতের সমালোচনা মানায় না। ধনকড় তাতে না দমে রাজস্থানে সর্বভারতীয় স্পিকার সম্মেলনের উদ্বোধন করতে গিয়ে ফের সুপ্রিম কোর্টের এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন গতকাল।
এই প্রশ্নেই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা আদালতকে সতর্ক হয়ে পদক্ষেপ করার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, আদালতকে তার মর্যাদা রক্ষার বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। একই মঞ্চে সরকারের কাজে আদালতের হস্তক্ষেপ নিয়ে মুখ খোলেন রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী গেহলট। তিনি বলেন, অনেক সময়ই আদালতের হস্তক্ষেপে সরকারের কাজ থমকে যাচ্ছে।
এই প্রসঙ্গে তিনি ইন্দিরা গান্ধীর ব্যাংক জাতীয়করণের সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্ট খারিজ করে দেওয়ার প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন। রাজস্থানের প্রবীণ কংগ্রেস নেতা তথা বিধানসভার স্পিকার সিপি যোশীর বক্তব্য, আদালত পরিষদীয় কাজেও হস্তক্ষেপ করছে। বিধানসভার সার্বভৌম এক্তিয়ারের কথা আদালত মাথায় রাখছে না।
প্রসঙ্গত, আদালতের হস্তক্ষেপ নিয়ে চলতি বিতর্কের সূত্রপাত হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগকে কেন্দ্র করে। নরেন্দ্র মোদী সরকারের তৈরি বিচারপতি নিয়োগ কমিশন ২০১৫ সালে বাতিল করে দেয় সর্বোচ্চ আদালত। ফলে সুপ্রিম কোর্ট নিজেই বিচারপতি বাছাই করে থাকে।
অন্যদিকে, সরকারের বক্তব্য, পৃথিবীর কোনও দেশে বিচারালয় বিচারপতি নিয়োগ করে না। বস্তুত এই ব্যাপারে বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করা হলেও সরকারের মতামত জানানোর সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের বর্তমান প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়-সহ সিনিয়র বিচারপতিরা অনড় বর্তমান কলেজিয়াম পদ্ধতি বহাল রাখতে, যেখানে সরকারের ভূমিকা শুধুমাত্র সর্বোচ্চ আদালতের বাছাই করা বিচারপতিদের নিয়োগপত্র দেওয়া।
এই ব্যবস্থার অবসান চেয়ে সরব হয়েছেন নরেন্দ্র মোদী সরকারের আইনমন্ত্রী কিরেন রিজিজু। তাঁর বক্তব্য, সরকারের মতামত শুনতে হবে আদালতকে। তিনি ফের বিচারপতি নিয়োগ কমিশনের পক্ষে সওয়াল করা শুরু করেছেন। জয়পুরের সর্বভারতীয় স্পিকার সম্মেলনে আদালতের সমালোচনায় বিজেপি-কংগ্রেসের এক সুর রিজিজু তথা কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থানকে শক্ত করল বলে মনে করা হচ্ছে।
ভারত জোড়োর অন্তিম দিনে মেগা শো কংগ্রেসের, ২০ দলকে চিঠি খাড়্গের