দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভিন্ রাজ্য থেকে ফেরত আসা অভিবাসী শ্রমিকরা আর কাজ পাচ্ছেন না নিজের রাজ্যে। কাজ না করলে নেই অর্থ, অর্থ ছাড়া দিন গুজরান করা অসম্ভব। এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন ধরে দরবার করার পরেও পঞ্চায়েত থেকে ১০০ দিনের কাজ ও সরকারি গণবণ্টন ব্যবস্থার মাধ্যমে খাদ্যপণ্য না পাওয়ার অভিযোগে শ্রমিকবিক্ষোভ তুঙ্গে মুর্শিদাবাদ। সোমবার এই ঘটনার জেরে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এই জেলার দক্ষিণতম প্রান্তের শেষ সীমানাবর্তী এলাকার রেজিনগর থানার দাদপুর গ্রাম।
বিক্ষোভকারী পরিযায়ী শ্রমিকেরা একজোট হয়ে এসে প্রথমে গ্রাম পঞ্চায়েতের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এর পরে পঞ্চায়েত উপপ্রধান-সহ অন্যান্য সরকারি কর্মীদের সঙ্গে কথা বলার পরেও কোনও সুবিধা না হওয়ায় মুহূর্তে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। চলে দেদার ভাঙচুর। অভিযোগ, ভেঙে ফেলা হয় পঞ্চায়েতের বাইরের বিভিন্ন কংক্রিটের ফলক থেকে শুরু করে, চেয়ার-টেবিল, গেট-সহ অন্যান্য জিনিসপত্র।
পঞ্চায়েত প্রধান মিতালী হালদারকে ঘিরে রেখেও শ্রমিকরা বিক্ষোভ দেখান বলে অভিযোগ। পরে পঞ্চায়েত প্রধান মিতালী হালদার বলেন, "কোনও রকমে বিক্ষোভকারীদের নজর এড়িয়ে গ্রাম পঞ্চায়েত ভবন ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসি। অল্প বিস্তর জখম হতে হয়েছে আমাকে। পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।"
অন্য দিকে বিক্ষোভকারী পরিযায়ী শ্রমিকদের দাবি, লকডাউনের মধ্যে কোনও রকমে তাঁরা ভিন্ রাজ্য থেকে ফিরে এসেছেন, কিন্তু এখানে এসে কর্মহীন হয়ে বসে রয়েছেন দীর্ঘদিন। কাজ না করলে খেতেও পাবেন না। তাঁদের অভিযোগ, পার্শ্ববর্তী পঞ্চায়েতগুলিতে ১০০ দিনের কাজের মাধ্যমে শ্রমিকদের নিয়োগ করা হচ্ছে অথচ তাঁদের এই দাদপুর পঞ্চায়েত থেকে কোনও কাজের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না।
শুধু তাই নয়, তাঁরা পঞ্চায়েতের কাছে দরবার করার পরেও বিনামূল্যে চাল থেকেও বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ। এই নিয়ে বারংবার পঞ্চায়েত প্রধান মিতালী হালদার থেকে শুরু করে উপপ্রধান-- সকলকে জানিয়েও নাকি কোনও সুরাহা হয়নি।
শেষমেশ ধৈর্য্যের বাঁধ ভাঙলে এদিন শ্রমিকরা দলবেঁধে পঞ্চায়েত ভবনে এসে বিক্ষোভ ও ভাঙচুর করে বলে জানা গেছে। ঘটনার পরেই স্থানীয় রেজিনগর থানার বিশাল পুলিশবাহিনী এলাকায় পৌঁছে পঞ্চায়েত চত্বর ঘিরে ফেলে। এ ব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপার কে শবরী রাজকুমার বলেন, ইতিমধ্যেই পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখে ভাঙচুরকারীদের চিহ্নিত করারও কাজ চলছে।