দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরপাড়ায় প্রবীর ঘোষালের পোস্টারে কালি লেপে 'গদ্দার মীরজাফর' লিখে দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের যুব কর্মীরা। শুভেন্দু অধিকারী দল ছাড়ার পরে যে ভাবে বিক্ষোভ হয়েছিল বিভিন্ন জায়গায়, ঠিক তেমনটাই যেন দেখা গেল উত্তরপাড়ায়।
গতকালই বিশেষ চার্টার্ড বিমানে করে দিল্লি উড়ে গিয়ে অমিত শাহের হাত ধরে বিজেপিতে যোগদান করেন হাওড়ার প্রাক্তন তৃণমূল নেতা রাজীব বন্দোপাধ্যায়, প্রবীর ঘোষাল, বৈশালী ডালমিয়ারা। এর পরেই আজ সকালে উত্তরপাড়ার যুব তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা মিছিল করে শহরের বিভিন্ন জায়গায়। যেখানে যেখানে প্রবীর ঘোষালের ছবি ও পোস্টার রয়েছে, সেখানেই তারা কালি লেপে দেয়।
জানা গেছে, উত্তরপাড়া শহর যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সহ-সভাপতি সন্দীপ দাসের নেতৃত্বে এই মিছিল ও বিক্ষোভ কর্মসূচি চলে। তাঁরা হিন্দমোটর ধারসা পেট্রোল পাম্পের সামনে গঙ্গা জল দিয়ে রাস্তা ধুয়ে দেন। সন্দীপ বলেন, "প্রবীর ঘোষাল এই পাঁচ বছরে উত্তরপাড়ার কোনও উন্নয়ন করেননি, উল্টে দলের মধ্যে বিভেদ তৈরি করে রেখেছিলেন। তিনি দল ছেড়ে দেওয়াতে আমরা খুশি, তাই উত্তরপাড়াকে গঙ্গাজল দিয়ে শুদ্ধ করা হল। এই সব গদ্দারদের শাস্তি দেওয়ার জন্য কালি মাখানোটা কিছুই নয়।"
বিজেপির রাজ্য নেতা ভাস্কর ভট্টাচার্য বলেন, "তৃণমূল দলটাই কালিমালিপ্ত দল। প্রবীর ঘোষাল একজন সচ্ছভাবমূর্তি সম্পন্ন মানুষ। তিনি কালিমালিপ্ত হতে চাননি বলেই বিজেপিতে যোগদান করেছেন। তৃণমূল যেটা করছে, সেটা হতাশা থেকে করছে। ওরা জেনে গেছে ওদের দিন শেষ হয়ে গেছে।"
বেশ কিছুদিন ধরেই প্রকাশ্যে দলের সমালোচনা করছিলেন প্রবীরবাবু। গত ১৫ জানুয়ারি তিনি বলেন, ‘‘লোকসভায় আমাদের ফলাফল খারাপ হয়েছিল। তার পরে সংগঠনে পরিবর্তন আনা হয়। কিন্তু তা কতটা ফলপ্রসূ হয়েছে, তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে। সংগঠন এবং সরকারের কাজকর্ম দু'দিকেই বেশ কিছু ত্রুটি রয়ে গেছে। এটা বলতে আমার কোনও দ্বিধা নেই।’’
নিজের এলাকার একটি রাস্তা নিয়েও ক্ষোভ উগরে দেন প্রবীরবাবু। তিনি বলেন, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চেষ্টা করছেন। কিন্তু উন্নয়নে ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। সেটা মানুষের মধ্যে একটা বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। আমার এলাকার একটা রাস্তা দু’টি পঞ্চায়েত এলাকার মধ্যে পড়ে। রাস্তাটি সারানোর জন্য দীর্ঘদিন ধরে দরবার করছেন মানুষ। কিন্তু কোনও সুরাহা হয়নি। এগুলোর সমাধান করতে না পারলে ২১-এর লড়াই কঠিন হবে।’’
এই সব মন্তব্যে চাপা ছিল না দলের প্রতি তাঁর অসন্তোষ। অনেকের কানেই বেসুরো ঠেকেছিল তাঁর কথাগুলি। এখানেই শেষ নয়, ২০ তারিখে ফের মুখ খোলেন প্রবীরবাবু। এবার তিনি অভিযোগ করেন, পরিকল্পনা করে তাঁকে নির্বাচনে হারানোর চেষ্টা চলছে। কেন? প্রবীরবাবুর বক্তব্য, তিনি বারবার জানানো সত্ত্বেও কোন্নগরের রাস্তা মেরামতির ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়নি তৃণমূল পরিচালিত কানাইপুর গ্রাম পঞ্চায়েত।
শেষমেশ গতকাল আনুষ্ঠানিক ভাবেই বিজেপি-তে যোগ দিয়ে দিলেন প্রবীর। গতকাল রাতে দিল্লিতে আর পাঁচ জন বাংলার নেতার সঙ্গে তাঁকে উত্তরীয় পরিয়ে বরণ করে নেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।