ছাত্রকে যৌন নির্যাতনে ধৃত দুই
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: মগরাহাটের কলেজ ছাত্রের শরীরে কাঠের দণ্ড ঢুকিয়ে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগে দু’জনকে গ্রেফতার করল চুঁচু্ড়া থানার পুলিশ। ধৃত মাধব মণ্ডলের বাড়ি হুগলির দেবানন্দপুরে। ধৃত অপর যুবক বসির আলির বাড়ি ঈশ্বরবাগে। মাধব পেশায় কাঠমি
শেষ আপডেট: 8 January 2020 10:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: মগরাহাটের কলেজ ছাত্রের শরীরে কাঠের দণ্ড ঢুকিয়ে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগে দু’জনকে গ্রেফতার করল চুঁচু্ড়া থানার পুলিশ। ধৃত মাধব মণ্ডলের বাড়ি হুগলির দেবানন্দপুরে। ধৃত অপর যুবক বসির আলির বাড়ি ঈশ্বরবাগে। মাধব পেশায় কাঠমিস্ত্রি। সেই ওই কাঠের দণ্ডটি তৈরি করেছিল বলে জানিযেছে।
সঞ্জয় মণ্ডল নামে ওই ছাত্র কলেজে যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বের হয়। কলেজ থেকে টিউশন পড়তে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। অভিযোগ, গৃহশিক্ষকের কাছে পড়তে না গিয়ে সে ব্যান্ডেলে চলে যায় ঋক সরকার নামে এক ফেসবুক বন্ধুর কাছে। রাতে মাথার চুল কামানো, ভ্রু কাটা, গালে ক্ষত ও রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে চুঁচু্ড়া ইমামবাড়া জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সেখান থেকেই খবর পেয়ে চুঁচু্ড়া হাসপাতালে আসে ছাত্রের বাড়ির লোকজন। ওই ছাত্রের পায়ু দিয়ে একটি কাঠের দণ্ড ঢোকানো হয়েছিল। বুধবার জানা যায় ঋক সরকারের প্রোফাইলটি ভুয়ো।
আদতে কাপাসডাঙার বাসিন্দা মাধব মণ্ডল দেবানন্দপুরে বছর তিনেক আগে জমি কিনে বাড়ি করে। সেই বাড়িতে বহিরাগতদের আসা যাওয়া ছিল, গানবাজনা ও মদের আসর বসত বলে অভিযোগ এলাকার লোকজনের। অবশ্য এই ঘটনার কথা এলাকার লোজন জানতে পেরেছেন সংবাদমাধ্যম থেকেই।
পুলিশ ধৃতদের কাছ থেকে যে মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে তাতে বিকৃত যৌনাচারের বহু ছবি ও ভিডিও পাওয়া গেছে। ফেসবুকে জেন্ডার গ্রুপ থেকে ওই ছাত্রের সঙ্গে পরিচয় হয়। ঘটনার দিন ওঅ ছাত্রটিকে ফোন করে ডাকে রহমত। সেই ফোনের টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে অভিযুক্তদের সন্ধান পায় পুলিশ। ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৭, ৩০৭, ৩৪১, ৩২৩, ৩৭৯, ১২০/বি এবং ৫০৬ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

ধৃত বসির আলির দাবি, ঋক সরকার নামে তাঁর ফেসবুক এ্যাকাউন্ট রয়েছে। নির্যাতিত ছাত্রও নিজেকে মেয়ে পরিচয় দিয়ে ফেসবুকে বন্ধুত্ব পাতায়। মঙ্গলবার ব্যান্ডেলে নেমে দেবানন্দপুরে মাধব মণ্ডলের বাড়িতে যায়। সেখানে তাদের মধ্যে মারামারি হয়।
মাধব মণ্ডল জানিয়েছে, তার বাড়িতে গানের আসর বসে এবং সেখানে অনেকেই আসে। ওই কাঠের দণ্ডটিও সেই বানিয়েছে। অনেকেই তাকে অনেক কিছু অর্ডার দেয় বানিয়ে দিতে। এটিও সেভাবেই বানানো তবে ছাত্রকে নির্যাতনে সে দায়ী নয়।
পুলিশ অভিযুক্তদের বয়ান খতিয়ে দেখছে। ছাত্রের মোবাইলটি উদ্ধার হলেও কিপ্যাড লক থাকায় তা খোলা যায়নি। হাসপাতালে সুস্থ হলে ছাত্রকে জিজ্ঞাসাবাদা করতে আরো তথ্য সংগ্রহ করবে পুলিশ। ধৃত দু’জনকে কাল চুঁচু্ড়া আদালতে তোলা হবে।