দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজ সুকুমার রায়ের জন্মদিন। 'হযবরল'তে গেছো দাদার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি লিখেছিলেন, 'মনে কর, তুমি যখন যাবে উলুবেড়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে, তখন তিনি থাকবেন মতিহারি । যদি মতিহারি যাও, তাহলে শুনবে তিনি আছেন রামকিষ্টপুর । আবার সেখানে গেলে দেখবে তিনি গেলেন কাশিমবাজার । কিছুতেই দেখা হবার যো নেই।'
কোচবিহার দক্ষিণের বিক্ষুব্ধ তৃণমূলের বিধায়ক মিহির গোস্বামীও যেন খানিকটা তেমনই। কেন? লক্ষ্মীপুজোর সকাল থেকে তাঁকে হন্যে হয়ে খুঁজলেন রাজ্যের দুই মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ এবং বিনয়কৃষ্ণ বর্মণ। কিন্তু ওই, 'কিছুতেই দেখা হবার যো নেই।'
গতকাল মিহিরবাবুর বাড়িতে বিজয়া সারতে গিয়েছিলেন কোচবিহারের বিজেপি সাংসদ নিশীথ প্রামাণিক। দেড় ঘণ্টা কথা হয় দুজনের। তারপরই আজ রবি ঘোষ এবং বিনয় বর্মনের যাওয়া নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়। কিন্তু দুই মন্ত্রী চেষ্টা করেও দলের বিধায়কের দেখা পেলেন না।
মিহিরবাবুর বাড়িতে দুই মন্ত্রী যাওয়ার পর তাঁদের বলা হয়, তিনি আলিপুরদুয়ারে বোনের বাড়িতে গিয়েছেন। গাড়ি ঘুরিয়ে কোচবিহার থেকে আলিপুরদুয়ার চলে যান রবি এবং বিনয়। কিন্তু মিহির গোস্বামীর ছোট বোনের বাড়ি থেকে বলা হয়, দাদা এসেছিলেন। কিন্তু খানিকক্ষণ আগেই অসমে আরএক বোনের কাছে চলে গিয়েছেন। এই কথা শোনার পর আর আলিপুরদুয়ার থেকে অসমের দিকে যাননি দুই মন্ত্রী। ফিরে আসেন কোচবিহারেই।
কিন্তু সারাদিন যে ভাবে লুকোচুরি খেলা চলল তা নিয়ে হইহই পড়ে গিয়েছে কোচবিহারের রাজনীতিতে। গতকাল নিশীথের সঙ্গে দেখা করার পরেই অনেকে প্রশ্ন তুলেছিলেন তাহলে কি মিহির গোস্বামী বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন? এদিনের পর সেই জল্পনা আরও উস্কে গিয়েছে।
প্রসঙ্গত পুজোর মাস খানেক আগেই সাংঠনিক সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন মিহির গোস্বামী। তারপর তৃণমূলের ভোট ম্যানেজার প্রশান্ত কিশোরেরও তীব্র সমালোচনা শোনা গিয়েছিল মিহিরবাবু। পরিস্থিতি যখন এমনই টানটান জায়গায় দাঁড়িয়ে তখন গতকাল ও আজকের পরপর দুদিনের ঘটনায় কোচবিহার দক্ষিণের তৃণমূল বিধায়ককে নিয়ে চূড়ান্ত কৌতূহল রাজনৈতিক মহলে।
যদিও এদিনও কোচবিহারের তৃণমূল জেলা সভাপতি তথা প্রাক্তন সাংসদ পার্থপ্রতিম রায় জোরের সঙ্গেই দাবি করেছেন, মিহিরবাবু দলেই আছেন, দলেই থাকবেন। মিহিরবাবুর দেখা না পেয়ে দুই মন্ত্রীর ফিরে আসার ঘটনাও তেমন কিছু নয় বলে জানিয়েছেন পার্থ।