
শেষ আপডেট: 26 July 2022 12:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক আহত পথচারীর চিকিৎসায় গাফিলতি নিয়ে উত্তেজনা ছড়াল জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়ি হাসপাতালে। সেই হাসপাতালের চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ এনেছেন এলাকারই এক তৃণমূল (TMC) কাউন্সিলর। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাসপাতালের ডাক্তাররা।
জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে পথ দুর্ঘটনায় আহত এক রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলেন স্থানীয় এক তৃণমূল কাউন্সিলর। কিন্তু বাড়ির লোক না এলে চিকিৎসা শুরু হবে না, এমন কারণ দেখিয়ে প্রায় আধঘণ্টা ধরে বিনা চিকিৎসায় তাঁকে ফেলে রাখেন ময়নাগুড়ি গ্রামীণ হাসপাতালের চিকিৎসকেরা। ঘটনার প্রতিবাদ করায় উল্টে সেই কাউন্সিলরের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করার অভিযোগ উঠল সেই চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার জেরে প্রবল চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
ময়নাগুড়ি পুরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের সেই কাউন্সিলর (TMC) বাবন দাস জানান, মঙ্গলবার দুপুরে তাঁরই এলাকার এক রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন তিনি। অভিযোগ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রথমদিকে চিকিৎসা করতে চায়নি। এমনকি তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারও করে। চিকিৎসকদের এহেন আচরণে অবাক হয়ে যান কাউন্সিলর সহ অন্যান্যরা।
জানা গেছে, মঙ্গলবার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা স্বপন সাহা নামে এক ব্যক্তি জলপাইগুড়ি থেকে ময়নাগুড়ি ফেরার পথে বাইক দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। ঘটনার খবর পেয়ে তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন সেই কাউন্সিলর। কিন্তু আহত ব্যক্তির আত্মীয় পরিজন না আসার কারণে প্রথম দিকে তাঁর চিকিৎসা শুরু করা হয়নি বলে জানান সেই কাউন্সিলর। তবে আধঘণ্টা পর শুরু হয় চিকিৎসা।
বন্ধুর বেশে বৃদ্ধের সঙ্গে প্রতারণা! চন্দননগরে পুলিশের হাতে ধরা পড়ল তিন প্রতারক
বাবন দাস বলেন, 'দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আমি আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে আনি। আমাকে হাসপাতাল থেকে বলা হয় আহতের বাড়ির লোক না এলে চিকিৎসা শুরু হবে না। এই কথা শুনে আমি অবাক হয়ে যাই। কারণ একজন মানুষের বুকে তাঁর নাম ঠিকানা লেখা থাকেনা। আমরা যারা রাজনীতির পাশাপাশি সমাজসেবার সঙ্গেও যুক্ত, চিরকাল এভাবেই অসহায় লোককে হাসপাতালে নিয়ে এসে চিকিৎসা করাই। আমরা জনপ্রতিনিধি। আমাদের সঙ্গেই যদি এইভাবে দুর্ব্যবহার করা হয়, তবে সাধারণ মানুষের কোন পরিস্থিতিতে পড়তে হয়, তা ভালই বোঝা যাচ্ছে। এই বিষয়ে অবশ্যই অভিযোগ জানান হবে।'
যদিও ঘটনায় চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক লাকি দেওয়ান। তিনি টেলিফোনে বলেন, রোগীকে চিকিৎসা করে সুস্থ করা হয়েছে। পরে তাঁকে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এদিন কাউন্সিলর মাস্ক না পরেই হাসপাতালে এসেছিলেন। তাই তাঁকে মাস্ক পরতে বলেছিলেন চিকিৎসকেরা। সেই নিয়েই বচসা হয়েছে।