সিবিআই পরিচয় দিয়ে বাসে তল্লাশি, যাত্রীদের টাকা লুঠ, পাকড়াও তিন দুষ্কৃতী
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তারা তিনজন। ভিন্ রাজ্য থেকে কলকাতায় আসা বাসগুলিক ছিল তাদের নিশানায়। কখনও পুলিশ, কখনও সিবিআই অফিসার সেজে ঠিক ফিল্মি কায়দায় বাস থামিয়ে চলত খানা তল্লাশি। সেই করতে গিয়েই যাত্রীদের টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র হাতিয়ে চম্পট দিত তারা
শেষ আপডেট: 19 April 2019 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তারা তিনজন। ভিন্ রাজ্য থেকে কলকাতায় আসা বাসগুলিক ছিল তাদের নিশানায়। কখনও পুলিশ, কখনও সিবিআই অফিসার সেজে ঠিক ফিল্মি কায়দায় বাস থামিয়ে চলত খানা তল্লাশি। সেই করতে গিয়েই যাত্রীদের টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র হাতিয়ে চম্পট দিত তারা। সম্প্রতি এমনই একটি বাসের যাত্রী কয়েকজন ব্যবসায়ীর থেকে ৩০ লক্ষ টাকা লুঠ করে গা ঢাকা দেয় দুষ্কৃতীরা। গোয়েন্দা সূত্রে খবর পেয়ে, শুক্রবার রাতে সেই তিনজনকে বালির মাইতি পাড়া থেকে পাকড়াও করে পুলিশ।
ঘটনা গত ১১ এপ্রিলের। ডানকুনির ২ নম্বর জাতীয় সড়কে পটনা-কলকাতাগামী বাস থামায় ওই তিনজন। পুলিশ জানিয়েছে, তারা স্করপিও গাড়িতে চেপে এসেছিল। বাসযাত্রীদের তারা পরিচয় দেয় সিবিআই অফিসার বলে। তল্লাশি চালাবার নাম করে যাত্রীদের থেকে টাকাপয়সা হাতিয়ে নেয়। বাসে কয়েকজন ব্যবসায়ীও ছিলেন, যাঁরা নগদ টাকা নিয়ে কলকাতায় ফিরছিলেন। তাঁদের মধ্যে একজনকে মুখ বেঁধে গাড়িতে তুলে নেয়। পরে তাঁর সর্বস্ব লুঠ করে ডানলপের কাছে তাঁকে রাস্তায় ফেলে দিয়ে যায়।
দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় সড়কে এমন একটি চক্র কাজ করছে খবর পেয়েছিল পুলিশ। সাম্প্রতিক ঘটনার পর তদন্তে নামে ডানকুনি থানা ও চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের গোয়েন্দারা। তদন্তকারীদের কথায়, একটি লাল স্করপিও গাড়ি চেপেই ডাকাতির কাজ চালাত ওই তিনজন। গতকাল রাতে মাইতি পাড়া এলাকায় ফের ওই স্করপিও গাড়িটি দেখা যায়। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে, এলাকা ঘিরে ফেলেছিল পুলিশ। রাতের দিকে পুলিশের জালে ধরা পড়ে তিনজন।

দুষ্কৃতীদের একজন কলকাতা শ্যামবাজারের বাসিন্দা প্রতাপ সরকার,অন্য দু'জন বারাসাতের কেরামত আলি ও ভরত পাল। তদন্তকারীদের কথায়, দুষ্কৃতীদের কাছ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা-সহ প্রচুর আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। মিনিস্ট্রি অব হোম এ্যাফেয়ার্সের বোর্ড লাগানো একটি হোন্ডা সিটি গাড়িও আটক করে পুলিশ। ধৃতদের আজ শ্রীরামপুর আদালতে তোলা হলে তাদের ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত।