দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতা বিমানবন্দরে নামার পর থেকেই খোঁজ মিলছিল না চার যাত্রীর। ওই চারজনেই বাংলার বাসিন্দা বলে জানিয়েছিল রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। সোমবার সকালে সেই চারজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তাঁদের মধ্যে দু’জন ভর্তি হলেন বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে। বাকি দু’জনকেও ভর্তি করা হবে বলে জানিয়েছেন রাজ্য স্বাস্থ্য অধিকর্তা (প্রশাসন) অজয় চক্রবর্তী। এখনও অবধি ভাইরাসের সংক্রমণ সন্দেহে বেলেঘাটা আইডিতে ভর্তি রয়েছেন মোট চারজন। তাঁদের রাখা হয়েছে কড়া পর্যবেক্ষণে।
করোনাভাইরাস আক্রান্ত দুই কেরলের বাসিন্দার সঙ্গে একই বিমানে ফিরেছিলেন তাঁরা। সেটা ২৩ জানুয়ারি। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, কলকাতা বিমানবন্দরে যাঁরা নেমেছিলেন তাঁদের মধ্যে তিনজন চিনের নাগরিক ছিলেন। তাঁরা দেশে ফিরে গেছেন বলে খবর। বাকি ছ’জনের মধ্যে দু’জন ছিলেন ভিন্ রাজ্যের বাসিন্দা। আর চারজনের খোঁজ মিলছিল না সেই রাত থেকেই। এই চারজনের মধ্যে দার্জিলিং, উত্তর ২৪ পরগনা ও গাঙ্গুলিবাগানের বাসিন্দা ছিলেন। এই চারজনকে খুঁজে বার করতে নবান্ন অভিবাজন দফতরের সাহায্য নেয় রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর।
রাজ্য স্বাস্থ্য অধিকর্তা (প্রশাসন) অজয় চক্রবর্তী বলেছেন, দার্জিলিংয়ের বাসিন্দা যিনি তাঁকে সেখানকার হাসপাতালে ভর্তি হতে বলা হয়েছে। দু’জনকে আপাতত ভর্তি করা হয়েছে আইসোলেশন ওয়ার্ডে। চতুর্থজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তিনিও খুব তাড়াতাড়ি ভর্তি হবেন হাসপাতালে।

কেরলে এখনও পর্যন্ত নোভেল করোনাভাইরাস আক্রান্ত দু'জনের খোঁজ মিলেছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক সূত্রে খবর, সিএনওভি-তে আক্রান্ত চিনের উহান বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী গত ২৩ জানুয়ারি কলকাতা বিমানবন্দর হয়ে কেরলে যান। কুনমিং থেকে যে বিমানে ওই ছাত্রী ফিরেছিলেন, তার ৫০ জন যাত্রীকে পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত হয়। সেই যাত্রী-তালিকায় এ রাজ্যের ছ’জনও ছিলেন। বঙ্গবাসী হলেও সকলেই যে ভারতীয় নাগরিক, সেটা নিশ্চিত করেনি স্বাস্থ্য দফতর। সূত্রের খবর, বিমানবন্দরে নামার পরে এদের মধ্য়ে চার জনের আরও কোনও খোঁজ মেলেনি। এদের খোঁজ পেতে রাজ্য় স্বাস্থ্য দফতর ও নবান্ন অভিবাসন দফতর কোমর কষে নামে।
গোটা বিশ্বে এই ভাইরাস নিয়ে চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই সংক্রমণ রুখতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-র তরফে জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও চিনে প্রতি দিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। ইতিমধ্যেই করোনার কবলে চিনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬২। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রবিবার পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ১৭ হাজারের বেশি। এই আবহে চিনের উহান শহরে আটকে পড়া ৩২৪ জন ভারতীয়কে নিয়ে রবিবার সকালে ফেরে এয়ার ইন্ডিয়ার দ্বিতীয় বিমান। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসাবে দেশে ফেরত আনা ওই ভারতীয়দের আগামী ১৪ দিন হরিয়ানার মানেসরের ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিশেষ শিবিরে রাখা হবে।
করোনাভাইরাসের মোকাবিলায় কার্যত তালাবন্ধ চিনের হুবেই প্রদেশের উহান শহর। ওই শহরে এই সংক্রমণের কেন্দ্র বলে মনে করা হচ্ছে। সংক্রমণ ঠেকাতে গত দু’সপ্তাহের মধ্যে চিনে গিয়েছেন, এমন বিদেশিদের প্রবেশ বন্ধ করেছে আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, ১ জানুয়ারির পরে চিনে গিয়েছেন এমন ভারতীয়ের সর্দি, জ্বর বা শ্বাসকষ্টের মতো লক্ষণ দেখা গেলে যেন নিকটতম স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, শনিবার থেকে ৩২৬টি বিমানের ৫২ হাজারের বেশি যাত্রীকে পরীক্ষানীরিক্ষা করা হয়েছে বিমানবন্দরে। তাঁদের ৯৭ জনের মধ্যে করোনার উপসর্গ দেখা যাওয়ায় আইসেলেশনে পাঠানো হয়েছে।