দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান : বাস চলাচল কমে গেছে। যে ক’টা আসছে তাতেও যাত্রী নেই। যদিও বা আছেন ক’জন, তারাও আবার তড়িঘড়ি শুধু চা খেয়েই উঠে পড়ছেন বাসে। তাই ল্যাংচা খাবে কে?
রাজ্যে করোনা আতঙ্ক তীব্র হওয়ার পর থেকেই ক্রেতা কমছে শক্তিগড়ে ২ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে সারিবদ্ধ ল্যাংচার দোকানগুলিতে। ব্যবসায়ীরা বলছেন ল্যাংচা বিক্রি কমে যাওয়ায় উৎপাদনও কমাতে বাধ্য হচ্ছেন। বিক্রি একেবার তলানিতে ঠেকায় কর্মীদের মাইনে দেওয়া যাচ্ছে না। এমনটা আগে কখনও হয়নি।
এই শতাব্দী প্রাচীন ল্যাংচার দোকানগুলির উপর ঝড় কম আসেনি। ২ নম্বর জাতীয় সড়ক তৈরি হওয়ার সময় শক্তিগড় রেলস্টেশনের পাশে থাকা একের পর দোকান ভাঙা পড়ে। সংকটের মুখে পড়ে ল্যাংচা ব্যবসা। তবে সেই সংকট বা সমস্যা বেশীদিন স্থায়ী হয়নি। দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে চালু হওয়ার পর প্যামড়ায় জায়গা দেওয়া হয় ল্যাংচার দোকানগুলিকে। আবার হইহই করে জমে ওঠে ব্যবসা।
দূরপাল্লার বাস ও যানবাহনের উপরেই চলে ল্যাংচার দোকানগুলি। দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার বাসগুলি আসা যাওয়ার পথে শক্তিগড়ে হল্ট করে। তখনই শক্তিগড়ের ল্যাংচা খেতে বাস থেকে নেমে পড়েন যাত্রীরা। ফেরার সময়ও নিয়ে যান বাড়ির লোকের জন্যেও। কিন্তু কয়েকদিনে বদলে গেছে গোটা প্রেক্ষাপটটাই। সপ্তাহখানেক ধরে মানুষজনের বাইরে বের হওয়ার প্রবণতা অনেকখানি কমে গেছে। বেশিরভাগ মানুষ ঘরবন্দি। রাস্তায় বাস ও অন্যান্য যানবাহনের সংখ্যাও কমে গেছে অনেক। দূরপাল্লার বাস বা হাতেগোনা গাড়ি যে কয়েকটি শক্তিগড়ে হল্ট করছে, তার যাত্রীরাও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন বলে জানালেন ল্যাংচা ব্যবসায়ীরা। এমনই একজন ব্যবসায়ী বিদ্যুৎ ঘোষ বলেন, “ল্যাংচা খাওয়া তো দূরের কথা। বাড়ির জন্যেও কিনছেন না কেউ। চা খেয়েই গাড়িতে চড়ে বসছেন। বাইরের খাবার নাকি এখন খাওয়া ঠিক নয়।”
একটি দোকানের ম্যানেজার বললেন, “বিক্রি একদমই হচ্ছে না। এমন চললে এবার কর্মীদের মায়না বন্ধ হয়ে যাবে। সেই আশঙ্কায় রয়েছি।”
সব মিলিয়েই রীতিমতো সংকটে শক্তিগড়ের ল্যাংচা সাম্রাজ্য।