দ্য ওয়াল ব্যুরো, আলিপুরদুয়ার: করোনা ঠেকাতে দীর্ঘ লকডাউন চলায় কাজ হারিয়েছেন বহু মানুষ। গ্রাম ছেড়ে রুটিরুজির জন্য বাইরে গিয়েছিলেন যাঁরা, তাঁদের অনেকেই বাধ্য হয়ে ফিরে এসেছেন গ্রামে। অন্তত চাষের কাজ করে পেটের ভাতটুকু জোগাড় করা যাবে, সেই আশায়। কিন্তু বাধা সেখানেও। নিত্য হাতির পালের হানায় সাড়াশি আক্রমণের মুখে পড়েছেন ডুয়ার্সের জঙ্গল লাগোয়া এলাকার মানুষজন।
প্রায় প্রতি রাতেই জঙ্গল থেকে বেরিয়ে হাতির পাল হানা দিচ্ছে লাগোয়া গ্রামগুলিতে। ফসলের লোভে তোলপাড় করছে চাষের জমি। খেতের ফসল নষ্ট হচ্ছে খেতেই। হাতির হামলায় চাষাবাদ করতে পারছেন না জঙ্গল লাগোয়া এলাকার মানুষজন।
জলদাপাড়া জঙ্গল লাগোয়া শালকুমার হাট সংলগ্ন এলাকার সিধাবারি গ্রাম। এই গ্রামে হাতির উপদ্রব চলছেই। ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে বিঘার পর বিঘা কৃষিজমি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতি রাতে গ্রামে ঢুকে তাণ্ডব চালাচ্ছে হাতির পাল। মাঠের ধানের পাশাপাশি এলাকার কলাবাগান, সুপারিবাগান সব নষ্ট করে দিচ্ছে তাঁরা।
সিধাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা নগেন রায় বলেন, এই করোনা পরিস্থিতিতে বাইরে কাজ করতে যেতে পারছি না। যেখানে কাজ করতাম সেখানে কাজ চলে যাওয়াতেই ঘরে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছি। ভেবেছিলাম জমিতে চাষ করে অন্তত পেটের ভাতটুকু জোটাবো। কিন্তু তাতেও বাধা। হাতি আর বাইসনের নিত্য হামলায় আমাদের চাষবাস করা মাথায় উঠেছে। ভবিষ্যতে কী হবে, সত্যিই বুঝতে পারছি না।’’
এলাকার অন্য বাসিন্দাদের বক্তব্য, বন দফতরকে বারবার জানিয়েও ফল হচ্ছে না কোনও। লোকালয়ে ঢুকে হাতির পাল ফসলের ক্ষতি করলেও হাতি তাড়াতে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। ফসলের ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণও মিলছে না।
জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের ডিএফও কুমার বিমল বলেন, ‘‘জঙ্গল লাগোয়া এলাকায় মাঝে মধ্যেই বুনো জন্তু ঢুকে পড়ে। এটা নতুন কিছু নয়। এই রকম ঘটনা ঘটলে আমরা সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা গ্রহণ করি।"
করোনা পরিস্থিতিতে আর্থিক সংকট আরও গাঢ় হচ্ছে জঙ্গল লাগোয়া এলাকায়।