দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: এখন পিকনিকের মরসুম। এ সময় মেতে ওঠে ভাতার থানার ওড়গ্রাম। এখানকার পিকনিক স্পটে জমে ওঠে পিকনিক। দূরদূরান্ত থেকে আসেন বহু মানুষ।
রবিবার ছুটির দিনে একটা অন্যরকম দৃশ্যের সাক্ষী রইলেন এখানে আসা পর্যটকরা। পিকনিক স্পট হওয়ায় প্রতিদিনই থালা হাতে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায় স্থানীয় কিছু শিশুকে। ওদের পিকনিক করার বাহুল্য নেই। পেট ভরানোর জন্য রোজ চলে আসা। যারা পিকনিক করতে আসেন তাঁদের কাছে চেয়েচিন্তে খাবার যোগাড় করে ওই গরিব ছেলেমেয়েরা। কেউ দেন, কেউ দেন না। কিন্তু রবিবার ওরাও পিকনিক করল। ওদের পিকনিকের আয়োজন করে দিলেন ভাতার থানার ওসি প্রণবকুমার ব্যানার্জি।
ভাতারের ওড়গ্রাম ফরেস্ট পিকনিক স্পট হিসেবে বেশ পরিচিত জায়গা। নতুন বছরের প্রথম দিকে দূরদূরান্ত থেকে মানুষজন এই জায়গায় পিকনিকের জন্য জড়ো হন। আর তখনই এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত ঘুরে বেড়িয়ে খাবার জোগাড় করে বাড়িতে গিয়ে সপরিবারে খায় স্থানীয় কিছু শিশু।
রবিবার ভাতার থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি প্রণব কুমার ব্যানার্জির উদ্যোগে ভাতার থানার পুলিশ এই সমস্ত অসহায় শিশুদের একত্রিত করে রান্না করা খাবার তাঁদের মুখে তুলে দিল। একদিন চেয়েচিন্তে নয়, রীতিমতো আসনে বসে মাংস, ভাত, সবজি, মিষ্টি পেটপুরে খেল গরীব শিশুরা।
পিকনিক করতে আসা মানুষজন ভাতার থানার পুলিশের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। বর্ধমান থেকে পিকনিক করতে আসা শেখ আসাদুজ্জামান বললেন, ‘‘কৌতুহলবশত কাছে গিয়ে দেখি এই আয়োজন। আনন্দ করে খাচ্ছে শিশুরা। আমরা খুব আনন্দ পেয়েছি। সবার এগিয়ে আসা উচিত। লকডাউনে দারিদ্র আরো চেপে বসেছে। এইসময় এই মানবিক উদ্যোগ সাধুবাদ পাওয়ার দাবি রাখে।’’
লকডাউনের সময়ও প্রণববাবু এগিয়ে এসেছিলেন। আটকে পড়া পরিযায়ী শ্রমিকদের খাওয়ানো দাওয়ানোর পাশাপাশি তাঁদের নতুন জামা কাপড় কিনে দিয়েছিলেন বারবার। এবার পিকনিকের মরসুমে দুঃস্থ শিশুদের একদিনের জন্য হলেও পেটভরে মাংস ভাত খাওয়ানো হল তাঁরই উদ্যোগে।