দ্য ওয়াল ব্যুরো, মালদহ: উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। সবথেকে খারাপ অবস্থা ইংরেজবাজার এবং পুরাতন মালদহ পুরসভা এলাকায়। কালিয়াচকের পরিস্থিতিও ভাবাচ্ছে জেলা প্রশাসনকে। তাই এই তিন জায়গাতেই নতুন করে কড়া লকডাউন লাগু করার জন্য জেলা প্রশাসনের তরফে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল নবান্নে। পরিস্থিতি বিচার বিবেচনা করে সেই প্রস্তাব রাজ্য প্রশাসন মেনে নিয়েছে। আই আগামীকাল থেকেই ফের মালদহ জেলার দুই পুরসভা এলাকা ও কালিয়াচকে লাগু হচ্ছে কড়া লকডাউন।
বর্তমানে মালদহ জেলায় করোনা আক্রান্ত রোগীদের মোট সংখ্যা ৮৯৪ জন। ইংরেজবাজার ও পুরাতন মালদহ পুরসভা এলাকায় গত সাত দিনে আক্রান্ত হয়েছেন একশো জনেরও বেশি মানুষ। ইতিমধ্যে জেলার প্রায় একশো জন পুলিশ কর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। করোনায় আক্রান্ত হবিবপুর ও কালিয়াচক থানার আইসি। করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন সদরের মহকুমা শাসক, জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ১ ও ২ এবং উপ মুখ্য স্বাস্ব্য আধিকারিক। এছাড়াও মালদহ মেডিক্যাল কলেজের বেশ কয়েকজন স্বাস্থ্যকর্মীও করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।
উদ্বেগজনক এই পরিস্থিতি নিয়েই সোমবার বৈঠক করেন জেলা প্রশাসনের কর্তারা। তারপরেই জেলায় ফের লকডাউন জারির প্রস্তাব পাঠানো হয় নবান্নে। আপাতত যে এলাকাগুলিতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা হুহু করে বাড়ছে, সেই এলাকাগুলিতে কড়া লকডাউন করার প্রস্তার পাঠানো হয়। ইংরেজবাজার পুরসভার প্রশাসক নীহাররঞ্জন ঘোষ এই জানান, নবান্নের ছাড়পত্র মেলায় আগামীকাল থেকেই এই দুই পুরসভা ও কালিয়াচকে নতুন করে লকডাউন করা হবে।
তিনি জানান, আপাতত সাতদিন লকডাউন জারি থাকবে। এই সময়ের মধ্যে ওষুধ এবং সবজি বাজারে কিছুটা ছাড় থাকলেও বাকি সমস্ত কিছু বন্ধ থাকবে। বন্ধ থাকবে মন্দির মসজিদ সহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। জমায়েত রুখতে প্রায় ৯০ টি ড্রোন দিয়ে নজরদারি চালানো হবে বিভিন্ন এলাকায়।
আগামীকাল থেকে নতুন করে লাগু হওয়া লকডাউন নিয়ে ইতিমধ্যে নির্দেশিকাও প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে স্পষ্ট করে বলে দেওয়া হয়েছে মাছ,মাংস, ফল, সবজি এবং অন্যান্য কাঁচামালের দোকান সকাল আটটা থেকে ১১টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। চা, পানের দোকান, ধাবা ও হোটেল এই ক’দিন পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। এই দুই পুর এলাকার মধ্যে বন্ধ থাকবে সমস্ত যাত্রীবাহী যান চলাচল। এই সাতদিন এই তিন এলাকায় কোনও বেসরকারি অফিসও খোলা যাবে না।