দ্য ওয়াল ব্যুরো, বীরভূম: নেশাগ্রস্ত যুবকের চিকিৎসা করতে গিয়ে আক্রান্ত হলেন এক চিকিৎসক সহ মোট তিনজন। এঁদের মধ্যে একজন হাসপাতালের নিরাপত্তা রক্ষী। অন্যজন পুলিশকর্মী। শুক্রবার রাত দু’টো নাগাদ সিউড়ির জেলা হাসপাতালে এই ঘটনায় তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
শুক্রবার দুপুরে সিউড়ি জেলা সংশোধনাগার থেকে নেশাগ্রস্থ ওই যুবককে চিকিৎসার জন্য সিউড়ি হাসপাতালে নিয়ে আসে পুলিশ। হাসপাতালের পুলিশ সেলে রাখা হয়েছিল তাঁকে। দুপুর সাড়ে তিনটে নাগাদ তাঁকে দেখে যান মেডিসিনের ডাক্তার অভিষেক রায়। দেখে যান মনোরোগ বিশেষজ্ঞ জিষ্ণু ভট্টাচার্যও। সন্ধের পরেও একবার দেখে যান তাঁরা। গভীর রাতে সেই রোগীই হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে ওঠেন।
খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে চলে আসেন চিকিৎসক জিষ্ণু ভট্টাচার্য ও অভিষেক রায়। ওই যুবককে শান্ত করার জন্য ওষুধ দেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু সেলের দরজা খুলতেই মারমুখী হয়ে ওঠে ওই যুবক। চিকিৎসককে লক্ষ্য করে ভাঙা কাচ, লোহার টুকরো, ছুড়তে শুরু করে ওই রোগী। মনোরোগ বিশেষজ্ঞ জিষ্ণু ভট্টাচার্যের মুখে এসে লাগে বেশ কয়েকটি কাচের টুকরো। ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায় তাঁর মুখ।
তাঁর আর্তচিৎকার শুনে ছুটে আসেন হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মী। যুবকের ছোড়া কাচের টুকরোয় আহত হন তিনিও। কাচের ঘায়ে জখম হন এক পুলিশকর্মীও। কোনও মতো সেলের দরজা বন্ধ করে বাইরে বেরিয়ে আসেন তাঁরা। কাচের ঘায়ে জখম তিনজনের চিকিৎসা করা হয়।
পুলিশ সেলে ওই যুবক কীভাবে কাঁচ, লোহার মত জিনিসগুলি পেল, কেনই বা পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি দেখা হয়নি এই সমস্ত বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন জিষ্ণু ভট্টাচার্য। হাসপাতাল সুপারের কাছেও লিখিত অভিযোগ জানাবেন বলে জানান ওই মনোরোগ বিশেষজ্ঞ। হাসপাতাল সূত্রে খবর, পুলিশ সেলের ভেতরে আছে কাচের জানলা। সেই জানলার কাচ ভেঙেই ওই যুবক তিনজনকে জখম করে। এর আগে একজন রোগী জানলার কাচ দিয়ে নিজের হাতের শিরা কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল।
হাসপাতালের সুপার শোভন দে জানান, পুরো বিষয়টিই খতিয়ে দেখছেন তাঁরা। ওই রোগীকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।