দ্য ওয়াল ব্যুরো, পুরুলিয়া: নিজের বাড়িতে খুন হলেন এক কলেজ শিক্ষক। পুরুলিয়া শহরের রবীন্দ্রপল্লির বাসিন্দা ওই শিক্ষকের নাম অরূপ চট্টরাজ (৪৭)। পুরুলিয়ার নিস্তারিণী মহিলা মহাবিদ্যালয়ে অর্থনীতি পড়াতেন তিনি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতোই শুক্রবার রাতের খাওয়া সেরে দোতলায় নিজের ঘরে চলে যান অরূপবাবু। ঘরেই লুকিয়ে ছিল আততায়ী। তিনি ঘরে ঢুকতেই ঝাঁপিয়ে পড়ে। দোতলা থেকে অরূপবাবুর চিৎকার শুনে উপরে ছুটে যান তাঁর মা লীলা চট্টরাজ। কিন্তু ছেলেকে আততায়ীর হাত থেকে ছাড়াতে না পেরে নীচে চলে আসেন। হাতিয়ার হিসেবে একটা টর্চ নিয়ে যখন ফের উপরে ওঠেন, ততক্ষণে অরূপবাবুকে গলায় মাফলার জড়িয়ে খুন করে ছাদের দরজা দিয়ে পালিয়ে গেছে খুনি।
লীলাদেবী বলেন, “ছেলেকে ছাড়ানোর জন্য সাধ্যমতো চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। তারপরেই নীচে নেমে এসেছিলাম টর্চ নিতে।”
জানা গেছে রবীন্দ্র পল্লির ওই বাড়িতে বাবা-মা-স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে থাকতেন অরূপবাবু। সম্পত্তি নিয়ে ভাইয়ের সঙ্গে গন্ডগোল ছিল বলে জানিয়েছেন তাঁর পড়শিরা।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুরুলিয়া সদর থানার পুলিশ। মৃতদেহ উদ্ধার করে দেবেন মাহাতো সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। প্রশ্ন উঠছে কী ভাবে খুনি বাড়িতে ঢুকে গেল কিন্তু বাড়ির কেউ জানতে পারল না ? ছাদের দরজা কে খুলে রেখে ছিল? অরূপবাবু খাবার খেয়ে দোতলায় যান সেটা কী ভাবে খুনি জানতে পারল? পুলিশ আধিকারিকদের কথায় এইসব প্রশ্নের উত্তর পেলেই খুনির পরিচয় জানা যাবে। গোটা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।