দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের শুরু হল রাজ্য-রাজ্যপাল টুইট যুদ্ধ। আজ, মঙ্গলবার দুপুরেই
বাংলার কোন জেলায় কত ধর্ষণ ও কত অপহরণের ঘনা ঘটেছে অগস্ট মাসে, সেই তালিকা প্রকাশ করে টুইটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারকে সরাসরি আক্রমণ করেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়।
এর কিছু পরেই রাজ্য স্বরাষ্ট্র দফতরের তরফে টুইট করে দাবি করা হয়, বাংলার ধর্ষণ ও অপহরণ নিয়ে যে 'পরিসংখ্যান' রাজভবনের তরফে প্রকাশ করা হয়েছে, তা কোনও সরকারি সূত্রের রিপোর্ট বা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা হয়নি। অভিযোগগুলি ভিত্তিহীন এবং বিভ্রান্তিকর। আসল ঘটনা ও তথ্যের ধারেকাছ দিয়েও যায় না রাজ্যপালের ওই পরিসংখ্যান।

এর পরে আবারও টুইট করেন রাজ্যপাল। দাবি করেন, রাজ্য সরকারের তরফে এই উত্তরে তিনি স্তম্ভিত হয়ে গেছেন। ২২৩টি ধর্ষণ ও ৬৩৯টি অপহরণের ঘটনা যে অগস্টে ঘটেছে, সে বিষয়ে তিনি প্রতিটি জেলা থেকে অফিসিয়াল রিপোর্ট পেয়েছেন। প্রতিটি তথ্য যত্নসহকারে যাচাই করা হয়েছে। এটা যে রাজ্য সরকার অস্বীকার করল, সে জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা ও ভুল স্বীকার করা উচিত।

পশ্চিমবাংলায় আইনশৃঙ্খলা প্রশ্নে বারবারই সরব হয়েছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। সাম্প্রতিক সময়ে জঙ্গি সন্দেহে বাংলা থেকে গ্রেফতার হওয়া, বিস্ফোরক উদ্ধার— সব নিয়েই নবান্নের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা শানিয়েছেন রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান। গতকালই ব্যারাকপুরের বিজেপি নেতা মণীশ শুক্ল খুনের ঘটনায় পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষ সারির কর্তাদের তলব করেছেন ধনকড়। আর আজ দুপুরে রাজ্যকে সরাসরি আক্রমণ করেন নারী নিরাপত্তার প্রশ্নে।
অগস্ট মাস জুড়ে এ রাজ্যের কোন জেলায় কত মহিলা অপহৃত ও কত মহিলা ধর্ষিত, তার রীতিমতো একটি পরিসংখ্যান প্রকাশ করেন রাজ্যপাল। সেই তালিকা টুইট করে এদিন তিনি লেখেন, “সরকারি রিপোর্ট অনুযায়ী ২২৩টি ধর্ষণ এবে ৬৩৯টি অপহরণ হয়েছে অগস্ট মাসে। এটাই রাজ্যে নারীহিংসার ছবি। শৃঙ্খলা ফেরানোর সময় হয়েছে এবার।”
সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশের হাথরাসের নৃশংস গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় সারা দেশ উত্তাল। যোগীরাজ্যের নারীনিরাপত্তা বড়সড় প্রশ্নের মুখে। বিজেপিশাসিত এ রাজ্য ক্ষোভের মুখে। হাথরাস-কাণ্ডের প্রতিবাদে এ রাজ্যেও বিভিন্ন দল একাধিক বিক্ষোভ মিছিল করেছে। ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন অনেকেই।
প্রশ্ন উঠেছে, সেই আক্রমণের পাল্টা জবাব হিসেবেই কি এ রাজ্যের অবস্থানটা এমন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে চাইলেন রাজ্যপাল? এমনিতেই এ রাজ্যের শাসকদলের বরাবরের অভিযোগ, রাজ্যপাল বিজেপির মুখপাত্রের মতো আচরণ করেন। রাজভবনের অবস্থানে কোনও নিরপেক্ষতা নেই, তা যেন বিজেপির পার্টি অফিস হয়ে উঠেছে। মনে করা হচ্ছে তেমনটাই আরও একবার প্রকট হল রাজ্যপালের এই টুইটে।
কিন্তু টুইঠের সেই অভিযোগ রাজ্যের তরফে অস্বীকার করা এবং তার পাল্টা ফের রাজ্যপালের জবাব-- এ দ্বন্দ্ব এখন কতদূর গড়ায়, সেটাই দেখার।