
শেষ আপডেট: 2 April 2023 14:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শক্তিগড়ে (Shaktigarh) কয়লা ব্যবসায়ী রাজু ঝা-র নৃশংস হত্যাকাণ্ডে (Shootout) তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন নতুন তথ্য। জানা গিয়েছে, যে গাড়ি থেকে রাজুকে গুলি করা হয়েছিল, সেই গাড়িটি নিয়ে। জানা গেছে, গাড়িটির মালিকানা রয়েছে কলকাতা শহরের এক মহিলার (Kolkata Woman) নামে! এই নিয়েই ঘনিয়েছে বড় জল্পনা। প্রশ্ন উঠেছে, কলকাতার গাড়ি কীভাবে গেল বর্ধমানে, গাড়ির মালকিনের সঙ্গেই বা ঘটনার কী যোগ!
পুলিশ জানিয়েছে, নীল রঙের যে গাড়ি থেকে গুলি করা হয়েছিল রাজুকে, সেই গাড়িটি রাস্তাতেই ফেলে পালিয়ে গিয়েছিল দুষ্কৃতীরা। সেই গাড়ির নথি খতিয়ে দেখে জানা গেছে, কলকাতার পাটুলির বাসিন্দা শাশ্বতী চক্রবর্তীর নামে রয়েছে ওই গাড়ি। শাশ্বতীর ছেলে সোহম চক্রবর্তী স্বীকারও করেছেন, গাড়িটি তাঁর মায়ের। তবে গত বছর সেপ্টেম্বরে একটি সংস্থাকে তাঁরা গাড়ি বিক্রি করেছিলেন। সেই গাড়ি বিক্রির কাগজপত্রও পুলিশকে দেখিয়েছেন তিনি। তবে নিয়মের ফাঁসে এখনও গাড়ির মালিকানা বদল হয়নি বলে তাঁর মায়ের নামটিই থেকে গেছে।
সোহম জানিয়েছেন, ২০১৭ সালে তাঁরা নীল রঙের মারুতি গাড়িটি কিনেছিলেন। গত বছর ২৮ সেপ্টেম্বর সেটি বিক্রি করে দিয়েছেন অনলাইন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে। একটি এজেন্ট সংস্থা গাড়িটি কিনে নেয় বলে জানান তিনি। গাড়ি বিক্রির পরে টাকাও পেয়ে যান। তবে ১০ হাজার টাকা বাকি ছিল, কারণ ওই এজেন্ট সংস্থা জানায়, গাড়ির নতুন মালিক হলে, অফিসিয়ালি নাম বদল হবে, তার পরে বাকি টাকা মিলবে। সেই টাকা এখনও মেলেনি, ফলে গাড়ির মালিকানাও বদলায়নি। এজেন্ট সংস্থার হয়ে যে মহিলা গাড়িটি নিয়েছিলেন, তাঁকে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সোহম।
সোহম দাবি করেছেন, গাড়ির মালিকানা পরিবর্তন সংক্রান্ত নিয়ম জটিল বলেই এই ঝামেলায় পড়তে হয়েছে তাঁর মাকে। আদতে ওই গাড়ির সঙ্গে তাঁদের কোনও যোগই নেই। গাড়ি বিক্রির সংস্থাই এই অপরাধে জড়িত থাকতে পারে বলে আন্দাজ করেছেন তিনি। ইতিমধ্যেই নির্দিষ্ট নথিপত্র-সহ সবকিছু নিয়ে পাটুলি থানায় যোগাযোগ করেছেন সোহম।
জানা গেছে, শনিবার রাতে শক্তিগড়ের আমড়া মোড়ের কাছে একটি ল্যাংচার দোকানে রাজু ঝা-র গাড়ি দাঁড়িয়েছিল। সেই সময়েই নীল রঙের গাড়ি করে এসে রাজুকে গুলি করে আততায়ীরা। তিনি মারা যান, তাঁর এক সঙ্গী জখম হন। আজ, রবিবার সকালে শক্তিগড় রেল স্টেশনের রাস্তায় সেই নীল গাড়িটি খুঁজে পায় পুলিশ। পুলিশের অনুমান, তারা হয়তো গাড়ি করেই কলকাতা পালাবে ভেবেছিল, কিন্তু নাকা চেকিংয়ে ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে তারা প্ল্যান বদলে, স্টেশনের কাছে গাড়িটি ফেলে রেখে ট্রেনে করে পালায়।
আচমকা গুলির শব্দ, তারপরেই সব শেষ! সিআইএসএফ জওয়ানের দেহ উদ্ধার চণ্ডীগড়ে