দ্য ওয়াল ব্যুরো: উনিশে ভোটের আগে ডিসেম্বরের গোড়া থেকে বাংলায় রথ যাত্রা শুরু করতে চলেছেন অমিত শাহ-মুকুল রায়রা। বাংলায় গণতন্ত্র বাঁচানোর দাবিতে সেই রথ ঘুরবে উত্তরের জেলাগুলি থেকে দক্ষিণে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত। এ হেন যাত্রার প্রস্তুতির নামে রোজ দিলীপ ঘোষ বা লকেট চট্টোপাধ্যায়ের মতো নেতা নেত্রী যখন গরম গরম কথা বলছেন, তখন তৃণমূলের নেতা কর্মীদের দিদি পষ্টাপষ্টি জানিয়ে দিলেন, “ওঁদের পাত্তা দেওয়ারই দরকার নেই। বিজেপি-র রথ যেখান দিয়ে যাবে, পরদিন সেখানে পবিত্র যাত্রা করুন। জায়গাটা শুদ্ধ করুন।”
শুক্রবার নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে দলের বর্ধিত সাধারণ পরিষদের বৈঠক ডেকেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই দলের নেতা কর্মীদের এই নির্দেশ দেন তিনি।
বিজেপি-র রথযাত্রা নিয়ে যুব তৃণমূল সভাপতি তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য এতোটা নরম নন। অভিষেক নিজেও বলেছেন, “নেত্রী উদার, আমি নই।” রথের চাকা বসিয়ে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন তিনি। তার পর চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, রথের চাকার সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ালে পিষে দেওয়া হবে।
তৃণমূল নেতৃত্বের রাজনীতিতে পোড় খাওয়া দিদি বুঝতে পারছেন, বিজেপি নেতারা চাইছেন জেলায় জেলায় তাঁদের রথ আটকে দাঁড়াক তৃণমূল। তাতে সংঘাত হবে। যত সংঘাত হবে, তত জোরে তারা চিৎকার করতে পারবেন,-বাংলায় গণতন্ত্র নেই। তাই কৌশলে প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে দিদি জানিয়ে দিলেন, বিজেপি-র রথযাত্রার দিকে ফিরে তাকানোরও দরকার। যা দেখার পুলিশ প্রশাসন দেখবে।
তবে বিজেপি-র রথযাত্রাকে এ দিন কটাক্ষ করতে ছাড়েননি মমতা। বলেন, রথ নয় ওটা রাবণ যাত্রা। অশুভ শক্তি ও বিভাজনের বিষ ছড়ানো হবে ওই রথ থেকে। তাই যে পথ দিয়ে ওই রথ যাবে তা শুদ্ধ করা দরকার। তৃণমূল কর্মীদের বলছি, বিজেপি-র রথ যাওয়ার পরদিনই পবিত্র যাত্রা করুন। শান্তি স্থাপন করুন এলাকায়।
এখানেই থামেননি মমতা। রথের স্বরূপ নিয়েও তিনি এ দিন টিপ্পনি করেন অমিত শাহ-দিলীপ ঘোষদের। বলেন, ওটা আবার রথ নাকি। ওটা একটা এসি গাড়ি। ভিতরে খাওয়া দাওয়া ঘুমোনোর সব ব্যবস্থা রয়েছে। আর রয়েছে টাকা। বুঝতে পারছেন তো!
পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিতে ছাড়েননি বিজেপি নেতারা। দিলীপ ঘোষদের বক্তব্য, তাঁদের রথ যাত্রার কথা শুনেই ঘাবড়ে গিয়েছে তৃণমূল। দিদি বুঝতে পারছেন, রথ যেখান দিয়ে যাবে, মানুষের মনে তৃণমূলের কুশাসন ও দুর্নীতি নিয়ে দাগ কেটে দিয়ে যাবে। তাই পাল্টা যাত্রার কথা বলছেন দিদি। কিন্তু পবিত্র যাত্রা করতে হলে মন পবিত্র রাখতে হবে তো! সেটা আছে তৃণমূলে কারও!