দ্য ওয়াল ব্যুরো: কসবার ভুয়ো ভ্যাকসিন কাণ্ডে পুরসভার কেউ যুক্ত নয় বলে কলকাতা পুরসভার প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম সাংবাদিক সম্মেলন করে দাবি করেছেন। সেই কারণে পুরসভার তরফে কোনও তদন্ত কমিটিও গড়েন নি তিনি। মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যপাধ্যায় জানিয়ে দিয়েছেন, ওই টিকাকরণ শিবিরের সঙ্গে সরকারের কোনও সম্পর্ক নেই।
তৃণমূলের তরফেও দাবি করা হয়েছে দলের কেউ ওই ভুয়ো টিকাকরণ শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিল না। কিন্তু ভ্যাকসিন কাণ্ডে ধৃত মূল অভিযুক্ত দেবাঞ্জন দেবের সঙ্গে দলের কোনও কোনও নেতার সম্পর্ক নিয়ে গোড়া থেকেই শাসক শিবিরে গুঞ্জন ছিল।
সূত্রের খবর ওই ঘটনায় শাসক দলের এক চিকিৎসক নেতার বয়ান রেকর্ড করেছেন কলকাতা পুলিশের তদন্তকারীরা। অন্তত দু'বার তাঁকে ডেকে বয়ান রেকর্ড করেছে পুলিশ।
কলকাতা পুলিশ লালবাজারের এক পদস্থ অফিসারের নেতৃত্বে বিশেষ তদন্ত দল (সিট ) গঠন করেছে। সিটের তদন্তে জানা যায় ওই চিকিৎসক নেতা যুক্ত এমন একটি সংগঠনই করোনা প্রতিরোধে কলকাতা পুরসভাকে কিছু সামগ্রী দিয়ে সাহায্য করেছিল। তাঁদের অনুষ্ঠানে দেবাঞ্জন কীভাবে উপস্থিত ছিল সে সম্পর্কে ওই চিকিৎসক নেতার বয়ান রেকর্ড করে পুলিশ।
ওই চিকিৎসক নেতার সঙ্গে দেবাঞ্জনের সম্পর্ক নিয়ে আলাদা করে খোঁজখবর নেওয়ার পর তাঁর বয়ান রেকর্ড করেছেন লালবাজারের কর্তারা। কলকাতা পুরসভায় একটি অনুষ্ঠানে তৃণমূলের ওই চিকিৎসক নেতা হাজির ছিলেন বলে পুলিশ জানতে পারে। সেই অনুষ্ঠানে হাজির ছিল দেবাঞ্জনও। কলকাতার পুর প্রশাসক তথা পরিবহণ মন্ত্রী ববি হাকিম সাংবাদিক সম্মেলন করে দাবি করেন, একটি চিকিৎসক সংগঠন করোনা মোকাবিলায় পূরসভাকে কিছু সামগ্রী দিয়ে সাহায্য করেছিল। সেগুলি হস্তান্তরের সময় চিকিৎসকদের সঙ্গে অনেকেই এসেছিলেন। সকলের নাম জানা সম্ভব নয়, মুখ মনে রাখাও অসম্ভব। পুলিশ ওই সামগ্রী হস্তান্তর অনুষ্ঠানের ব্যাপারে খোঁজখবর করতে গিয়ে ওই চিকিৎসা নেতার নাম জানতে পারে। দলীয় সূত্র থেকেও জানা যাচ্ছে, ওই চিকিৎসক নেতার সঙ্গে দেবাঞ্জনকে নানা সময় দেখা গিয়েছে। দলকে ওই চিকিৎসক নেতা জানিয়েছেন, দেবাঞ্জন তাঁকেও ধাপ্পা দিয়েছে। ধৃতের সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক নেই। ওই ব্যক্তির কাজকর্ম সম্পর্কেও তিনি অন্ধকারে ছিলেন।