
শেষ আপডেট: 14 August 2023 14:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: মুখে কুলুপ এঁটেছে আউশগ্রামের (Ausgram) সোমাইপুর গ্রাম। এলাকা কার্যত পুরুষশূন্য (Police beaten by villagers)। পাড়ার মহিলারাও ঘরবন্দি। অনেক বাড়িতেই রান্না চড়েনি। গ্রামে চাপা আতঙ্কের পরিবেশ। বেশির ভাগ বাড়িতে মানুষজন নেই। রয়েছে কেবল তাদের গবাদিপশুগুলি। প্রতিবেশীদের কেউ কেউ এগিয়ে গিয়ে খাবার দিচ্ছে তাদের। পুলিশকে মারধরের ঘটনায় গ্রামজুড়ে চলছে তল্লাশি।
নিহত মহিলার ছেলে বুধন সোরেন পুলিশের কাছে এফআইআর দায়ের করেছিলেন। রবিবার দুপুরে আউশগ্রাম থানার পুলিশ বুধন এবং তাঁর স্ত্রীকে আউশগ্রাম থানায় ডেকে পাঠিয়েছিল। বুধন ও তার স্ত্রীর পাশাপাশি তিন চারজন প্রতিবেশীও থানায় গিয়েছিলেন। তাঁদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন তদন্তকারী অফিসার। তারপর বাকিদের বাড়ি চলে যেতে বলে পুলিশ। আটকে রাখা হয় বুধনকে। রবিবার রাত প্রায় পৌনে আটটা নাগাদ বুধনকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশ সোমাইপুর গ্রামে যায়। পুলিশ জানায়, দীর্ঘক্ষণ জেরার পরেই বুধন স্বীকার করে নেয় তার মাকে সে খুন করেছে। মায়ের পরকীয়া সম্পর্ক মেনে নিতে না পারার কারণেই কোদালের বাঁট দিয়ে আঘাত করে খুন করেছে সে। পুলিশ এসেছিল ওই খুনে ব্যবহৃত কোদালটি উদ্ধার করতে। তারপরেই হামলার মুখে পড়ে পুলিশ।
পাড়ায় ঢুকেই বুধন তাদের নিজস্ব ভাষার লোকজনকে ডাকাডাকি করে। তারপর লাঠিসোঁটা হাতে প্রচুর লোকজন বেরিয়ে আসে। আইসি এবং তদন্তকারী অফিসার উত্তম পালকে বেধড়ক মারধর শুরু হয়। বেশকয়েকজন পুলিশকর্মী জখম হন। তারপরে সোমবার সোমাইপুরের আদিবাসীপাড়া কার্যত পুরুষ শূন্য। স্থানীয় কয়েকজন মহিলা দাবি করেছেন, পুলিশ যদি আগে এসে জানিয়ে দিত যে বুধনই তার মাকে খুন করেছে, তাহলে পুলিশের ওপর এই ধরনের হামলা হত না। তাঁরা বলেন, “বুধনকে নিয়ে আসার সময় সে কান্নাকাটি করে বলে তাঁকে পুলিশ মারধর করেছে। জোর করে খুনের কথা স্বীকার করিয়ে নিয়েছে। তাই পাড়াপড়শিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।”
পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় এদিন দফায় দফায় বৈঠক করছেন জেলাপুলিশের আধিকারিকরা। ঘটনার পর থেকে বুধন পলাতক। তার সন্ধান চালাচ্ছে পুলিশ। পূর্ব বর্ধমান জেলার ডিএসপি- ডিএনটি বীরেন্দ্র কুমার পাঠক জানান, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: আউশগ্রামে পুলিশের উপর হামলা গ্রামবাসীদের, বেধড়ক মার দুই পুলিশকর্মীকে