জলপাইগুড়িতে রাত জেগে লাইনে দাঁড়িয়েও ভ্যাকসিন মিলছে না, ভোগান্তি চরমে
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শিয়রে করোনার তৃতীয় ঢেউ। অতিমহামারীর প্রথম আর দ্বিতীয় ঢেউয়ের দাপট ভালভাবেই টের পেয়েছে সাধারণ মানুষ। তাই ভাইরাসের হাত থেকে বাঁচতে ভ্যাকসিন (Vaccine) মাস্ট। কিন্তু ভ্যাকসিন বিনামূল্যে মিললেও সুলভে মেলে না। ভ্যাকসিনের জন্য লাইন
শেষ আপডেট: 9 September 2021 11:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শিয়রে করোনার তৃতীয় ঢেউ। অতিমহামারীর প্রথম আর দ্বিতীয় ঢেউয়ের দাপট ভালভাবেই টের পেয়েছে সাধারণ মানুষ। তাই ভাইরাসের হাত থেকে বাঁচতে ভ্যাকসিন (Vaccine) মাস্ট। কিন্তু ভ্যাকসিন বিনামূল্যে মিললেও সুলভে মেলে না। ভ্যাকসিনের জন্য লাইন দিতে হয় সকাল থেকে, থুড়ি, আগের দিন রাত থেকে।
জলপাইগুড়ির (jalpaiguri) ওদলাবাড়ি গ্রামীণ হাসপাতালের ছবিটা তেমনই। এখানে ভ্যাকসিন পেতে গেলে যে টোকেন নিতে হয় তা দেওয়ার সময় সকালে। আর সেটা নিতে হাসপাতালের বাইরে লম্বা লাইন পড়ছে সাধারণ মানুষের। আগের দিন রাত থেকেই লাইনে দাঁড়াচ্ছেন অনেকে। পুরুষ আর মহিলাদের আবার আলাদা লাইনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বালিশ কাঁথা কম্বল নিয়ে লাইনেই কেউ কেউ শুয়েও পড়ছেন রাস্তার উপর। দূরদূরান্ত থেকে আসা মানুষের এই ভোগান্তি চলছে দিনের পর দিন।
ভারতে উৎপাদন বন্ধ করছে ফোর্ড, আমদানি করবে দামি গাড়ি
মাল ব্লকের ওদলাবাড়ির এই গ্রামীণ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে সকাল ৭টা থেকে টোকেন দেওয়ার নিয়ম করা হয়েছে। ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হচ্ছে সকাল ১০টা নাগাদ। তার জন্যেই রাত থেকে লাইন দিতে হচ্ছে সকলকে। সকালে এলে ভ্যাকসিন বা তার টোকেন, কোনওতাই পাওয়ার চান্স নেই।
রাত থেকে লাইন দিয়েও অনেক সময় সকালে ভ্যাকসিন বা তার টোকেন মিলছে না, অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। ফিরে যেতে হচ্ছে। আবার আসতে হচ্ছে পরের দিন।
ভ্যাকসিনের এই লাইনে ঝামেলা আরও বাড়াচ্ছে মশা। রাতভর মশার কামড়ে নাজেহাল হচ্ছেন টিকাপ্রার্থীরা। কিন্তু উপায় নেই, ভ্যাকসিন যে নিতেই হবে। তাই মশার কামড় সহ্য করেই সারা রাত লাইন দিতে হচ্ছে। বয়স্কদের ভোগান্তি আরও বেশি। কাজবাজও উচ্ছন্নে যাচ্ছে এই ভ্যাকসিন নেওয়ার চক্করে।
কেউ রাত ৩টে, কেউ ভোর ৫টা, কেউ আবার আগের দিন রাত ৮টা-৯টা থেকেও লাইন দিচ্ছেন ভ্যাকসিনের টোকেন পাওয়ার আশায়। স্বাভাবিকভাবেই রাতের খাবার নিয়ে আসতে হচ্ছে টিফিন ক্যারিয়ারে করে। রাতে লাইনেই শুয়ে থাকার মতো ব্যবস্থাও করতে হচ্ছে। সবমিলিয়ে ভ্যাকসিনের জন্য অব্যবস্থা চরমে। লাইনে ২০০ জনের পিছনে থাকলেই আর টোকেন মিলছে না বলে অভিযোগ।
কোভিডের ভ্যাকসিন নিতে সারারাত যেভাবে লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে শত অসুবিধা নিয়ে, তাতে অন্য রোগের আশঙ্কাও তৈরি হয়ে যাচ্ছে বলে অনুযোগ করেছেন কেউ কেউ। মশার কামড়ে ডেঙ্গি হতে পারে যেকোনও দিন। রয়েছে সর্দি কাশি ঠান্ডা লাগার ভয়ও। পর পর তিন চারদিন ধরে ঘুরে, রাত জেগে লাইনে দাঁড়িয়েও পরের দিন আর ভ্যাকসিন পাওয়া যাচ্ছে না। টোকেন শেষ হয়ে যাচ্ছে। অগত্যা খালি হাতেই বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন মানুষ।
রাজ্য জুড়ে ভ্যাকসিনের লাইনে অব্যবস্থার অভিযোগ নতুন নয়। আগেও এই অভিযোগ একাধিক জায়গা থেকে উঠেছে। সরকার থেকে নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল যাতে লাইনে বেশি ভিড় না হয় সেই ব্যবস্থা করার। কিন্তু জলপাইগুড়ির ওদলাবাড়ির গ্রামীণ হাসপাতালের ছবি দেখে বোঝা যাচ্ছে গ্রামবাংলায় অবস্থার কোনও পরিবর্তন হয়নি।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'