দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিজের সন্তানের হাতে বেদম মার খেয়ে মৃত্যু হল অসহায় বৃদ্ধার। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার এগরা থানা এলাকার ধলগোদা গ্রামে। ছেলে ও তার পরিবারের হাতে বেধড়ক মার খেয়ে মৃত্যু হলে বৃদ্ধার মৃতদেহ একটি গাছে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। আত্মহত্যার কারণেই মৃত্যু এমনটাই প্রমাণ করার উদ্দেশ্যে গলায় দড়ির ফাঁস আটকে তাকে গাছে ঝোলানো হয়েছে বলে অভিমত পাড়া প্রতিবেশীর। মূল অভিযোগ বৃদ্ধার ছেলে, পুত্রবধূ ও নাতির বিরুদ্ধে।
৭৫ বছর বয়স্কা রোহিনী মণ্ডলকে চূড়ান্ত মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার সহ্য করতে হত বলে পাড়া পড়শিদের সূত্রে জানা গিয়েছে। তাঁর একমাত্র পুত্র খোকন মণ্ডল কারণে অকারণে মায়ের ওপর অত্যাচার চালাত। গ্রামের সকলেই এই বিষয়টি জানত এবং একাধিকবার এই নিয়ে সালিশি সভাও হয়েছে। বারবার সাবধান করা সত্ত্বেও খোকন মণ্ডল তার আচরণে কোনও পরিবর্তন ঘটায়নি। একজন মানুষের সাধারণ চাহিদা বা প্রয়োজন মেটানো তো দূর অস্ত মা'কে ছেলে ও তার পরিবার ঠিকমতো খেতেও দিত না বলে জানা গিয়েছে প্রতিবেশীদের সূত্রে। অসহায় বৃদ্ধাকে অবাক করে দিয়ে তাঁর নাতিও তাঁকে অশ্রাব্য গালিগালাজ থেকে শুরু করে শারীরিক নিগ্রহ করতে শুরু করে। স্বামী এবং নিজের ছেলের সঙ্গে যুক্ত হয় খোকনের স্ত্রী, রোহিনী মণ্ডলের পুত্রবধূর অত্যাচার। অশক্ত শরীরে চোখের জল ছাড়া বৃদ্ধার আর কিছুই ছিল না যা দিয়ে বুকে জড়িয়ে আগলে রেখে বড় করা সন্তানকে এই অত্যাচার থেকে প্রতিহত করতে পারে।
অভিযোগে প্রকাশ রবিবার রাতে বৃদ্ধা কেন একা খাবার বেড়ে খেয়ে নিয়েছে এই কারণে খোকন, তার ছেলে ও স্ত্রী মিলে বেধড়ক মারতে শুরু করে রোহিনী মণ্ডলকে। দীর্ঘদিন ধরে চলা অত্যাচারিত শরীর গতকালের প্রবল মারের ধাক্কা বৃদ্ধা আর নিতে পারেননি। ছেলের হাতে মার খেতে খেতেই বৃদ্ধা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। মারের চোটে মৃত্যু হয়েছে জানতে পেরে ছেলে, নাতি ও পুত্রবধূ আত্মহত্যার চিত্রনাট্য তৈরি করে। কিন্তু শেষ রক্ষা হয় না। সকালে প্রতিবেশীরা এই ঘটনা জানতে পেরে উত্তেজনায় ফেটে পড়ে। পরে গোটা গ্রামবাসী খোকন মণ্ডলের বাড়ির সামনে জড়ো হয়। উত্তেজিত জনতা খোকনের স্ত্রীকে মারধর করে। বেগতিক বুঝে গুণধর ছেলে খোকন ও নাতি অগেভাগেই বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তে পাঠিয়েছে। ছেলে ও নাতির খোঁজ চলছে। খোকনের স্ত্রীকে পুলিশ আটক করেছে।