দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার ঘটনায় রাজ্যের নতুন স্বরাষ্ট্র সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে মাথায় রেখে পাঁচ সদস্যের কমিটি গড়ে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই কমিটি এখনও রিপোর্ট দেয়নি। কতটা তদন্ত এগিয়েছে তাও কেউ জানেন না। কিন্তু হেয়ার স্কুল প্রাঙ্গনে বিদ্যাসাগরের নতুন আবক্ষ মূর্তির উন্মোচন অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীই বলে দিলেন, বিজেপি-ই করেছে ওই কাজ।
বিরোধীরা বারবার অভিযোগ করেন, প্রতিটি ঘটনাতে মুখ্যমন্ত্রী একটা করে তদন্ত কমিটি গঠন করেন, আর তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই নিজে উপসংহার টেনে দেন। তাঁদের কথায়, বাংলার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অবস্থা যে জায়গায় দাঁড়িয়ে রয়েছে, সেখানে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই সিদ্ধান্ত টেনে দেওয়ার পর কি আদৌ সেই কমিটি সঠিক ভাবে তদন্ত করতে পারবে!
রাজনৈতিক মহলের মতে, এ দিনের হেয়ার স্কুলের অনুষ্ঠান ছিল পুরোদস্তুর সরকারি কর্মসূচি। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী যে কায়দায় ভাষণ দিলেন, তা শুনে প্রথমে ঠাওর করা যাচ্ছিল না এটা সরকারি অনুষ্ঠান, না তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও দলীয় কর্মসূচি। তাঁদের মতে, হয়তো সত্যিই ওই ঘটনায় বিজেপি-র যোগ রয়েছে। কিন্তু সেটা তো বলবে তদন্তের জন্য গঠিত কমিটি।
এ দিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এখন যিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (অমিত শাহ) হয়েছেন, তাঁর র্যালি ছিল ওই দিন। গেরুয়া ফেট্টি বেঁধে বিজেপি-র লোকজন বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙেছে।” তৃণমূল যে এর সঙ্গে কোনও ভাবেই যুক্ত নয়, তাও সরকারি অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে দাবি করেন মমতা। তিনি বলেন, “আবার বলছে তৃণমূল ভেঙেছে। তৃণমূল ভাঙলে আমি ঠাস ঠাস করে দুটো দিতাম। আমার পার্টি আই ক্যান কন্ট্রোল।”
বিজেপি-র এক শীর্ষ নেতা বলেন, “ভোটে হেরে ওঁর মাথা গুলিয়ে গিয়েছে। বুঝতে পারছেন না কোন মঞ্চে কী বলতে হয়। সরকারি অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে উনি তৃণমূলনেত্রীর বয়ান আওড়াচ্ছেন। উনিই আবার সবাইকে সাংবিধানিক এক্তিয়ার নিয়ে বড় বড় জ্ঞান দেন।”
রাজনৈতিক মহলের অনেকেই খাগড়াগড় প্রসঙ্গ টানছেন। তখন অবিভক্ত বর্ধমান। একটি বাড়ির ভিতরেই ঘটেছিল ভয়াবহ বিস্ফোরণ। সেই সময়ে তদন্তের আগেই মুখ্যমন্ত্রী বলে দিয়েছিলেন গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়েছে। পরে ওই তদন্তভার নেয় কেন্দ্রীয় সংস্থা এনআইএ। প্রকাশ্যে আসে বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠন জামাতের যোগ। বিরোধী নেতাদের কথায়, সেই একই ধারা বজায় রেখেছেন মমতা। এখন আরও খোলামেলা ভাবে।
যদিও তৃণমূল নেতারা বলছেন, তদন্ত কমিটি তাদের কাজ করবে। কিন্তু ওই ঘটনার ভিডিও ফুটেজেই স্পষ্ট বিজেপি-র মিছিলে আসা লোকজনই মূর্তি ভেঙেছে। মুখ্যমন্ত্রী সবটা জেনে বুঝেই বলেছেন।