
শেষ আপডেট: 27 January 2020 09:58
আশ্রমের বর্তমান পরিচালন কমিটির সদস্য অমল বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এই আশ্রমে বসেই স্বাধীনতা আন্দোলনের বীজ বপন করেছিলেন বিপ্লবী যতীন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ অনাদরে ও কার্যত অবহেলায় ভগ্ন কাঠামোয় কালের সাক্ষ্য বুকে নিয়ে দাঁড়িয়ে এই আশ্রম।
চান্না গ্রামের একপ্রান্তে বিপ্লবী যতীন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় তৈরি করেছিলেন এই আশ্রম। যার ভৌগোলিক অবস্থান বেশ নজরকাড়া। মনে করা হয়, স্বাধীনতা আন্দোলনের সুবিধার জন্যই সেই সময় একেবাকে নির্জন এই জায়গাকে বেছে নেওয়া হয়েছিল ভেবেচিন্তেই। একদিকে গলসি থানা, অন্যদিকে আউসগ্রাম ও ভাতার থানার সীমানায় বসে গুপ্ত ভাবে সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন তাঁরা।
‘আশ্রম’ মানে দেশের স্বাধীনতার জন্য গোপন কার্যকলাপ চালানোর আস্তানা। প্রায় ২৫ বিঘা জমির উপরে তৈরি হয়েছিল একটি খড়ের চালের ঘর। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের আনন্দমঠ থেকে উজ্জীবিত হয়ে দেশের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন যতীন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়।
কলকাতার মুরারিপুকুরে ব্রিটিশের উপর বোমা নিক্ষেপ করেছিলেন যতীন্দ্রনাথ। পঞ্জাবের গদর পার্টির সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ রেখে দেশকে স্বাধীন করার স্বপ্ন দেখতেন এই আশ্রমে বসেই। সাঁওতাল বিদ্রোহের নায়ক সিধো-কানহুর সঙ্গে এখানেই বসে আলোচনা করেছেন দিনের পর দিন।
দিনের পর দিন, রাতের পর রাত জেগে তাঁরা দেশকে স্বাধীন করার পরিকল্পনা করেছেন চান্না আশ্রমে বসে। বাম আমলে এই আশ্রমের জন্য একবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বেশি দূর এগোয়নি। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এখন এই আশ্রমের অবস্থা বেশ খারাপ হয়ে পড়েছে।