দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুরু হয়েছিল হামবুর্গ দিয়ে। এবার ডাক এল বার্লিন থেকে।
ভবানীপুরের মেয়ে তৃষিতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত তিন বছর ধরে হামবুর্গ টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠরত। ২৮ ডিসেম্বর হামবুর্গ শহরের একটি শপিং মলের সামনে ভারতীয় ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে জড়ো হয়ে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন। ১৮ জানুয়ারি তৃষিতা যাচ্ছেন বার্লিনে।
সেখানকার ভারতীয়রা শনিবার বিক্ষোভ দেখাবেন। হামবুর্গের কর্মসূচি দেখে অভিভূত বার্লিনে বসবাসকারী ভারতীয়রা আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তৃষিতাকে। বক্তৃতা থেকে কোরাস গান, স্লোগান—নেতৃত্ব দেবেন তিনিই।
হামবুর্গে বিক্ষোভের আগে বিস্তর ঝক্কি পোহাতে হয়েছিল তৃষিতা-সহ বেশ কয়েকজন ভারতীয় ছাত্রকে। একাধিক ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে কর্মসূচির প্রস্তাব দেওয়ার পর তাঁদের বের করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দাঁতে দাঁত চেপে ব্যক্তিগত উদ্যোগে চালিয়ে গিয়েছিলেন প্রস্তুতি। কিন্তু বার্লিনের কর্মসূচির আগে? তৃষিতা বলেন, “আরও বড় ঘাতপ্রতিঘাত পেরোতে হচ্ছে। বিভিন্ন সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে সংগঠিত ভাবে আক্রমণ শানানো হচ্ছে। হুমকি দেওয়া হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “তবে আশার কথা এই যে, আমরা এর মধ্যে আরও নতুন নতুন ভারতীয় পড়ুয়াকে আমাদের পাশে পেয়েছি। যাঁরা যোগ দেবেন বার্লিনের কর্মসূচিতে।”
কলকাতার এই তরুণী বলেন, “হামবুর্গের কর্মসূচির আগে ভাবতে পারিনি ওটা করতে পারব। বিদেশের মাটিতে বিষয়টা সহজ ছিল না। কিন্তু তারপর বার্লিনে ডাক পাওয়ার পর বেশ ভালই লাগছে।”
বাবা-মা সহ পরিবারের অনেকেই বাম আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয় ভাবে যুক্ত। তাই পরিবার থেকে বিশেষ বাধা আসেনি। বরং উৎসাহই দিয়েছেন বাবা বর্ণেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় ও মা স্বপ্না বন্দ্যোপাধ্যায়। যে আন্দোলন দেশ জুড়ে চলছে তাতে প্রতিদিন তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন স্লোগান। মেয়ের কাছে সেসব স্লোগান পাঠিয়ে দিচ্ছেন বর্ণেন্দুবাবুরাই।
চলছে বিক্ষোভের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। হামবুর্গের বাড়িতে বসে বাংলায় পোস্টার লিখছেন তৃষিতা। আরও একবার রেওয়াজ করে নিচ্ছেন, ‘হম কাগজ নেহি দিখায়েঙ্গে’ কবিতাটি। শুক্রবার রাত পোহালেই আড়াইশো কিলোমিটার ছুটতে হবে তাঁকে।