অনলাইন বোঝে না, স্কুল ছাড়ছে পড়ুয়ারা, স্কুলছুটদের ফেরাতে হাইকোর্টে মামলা শিক্ষকের
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অনলাইনে ক্লাস নিয়ে ঠিকঠাক ধারণাই নেই। স্মার্টফোন, ইন্টারনেটের অভাবে অনলাইন ক্লাস করতেই পারছে না অনেক পড়ুয়ারা। প্রত্যন্ত এলাকাগুলিতে ছাত্রছাত্রীদের স্কুলে ডেকে আনতেই অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়। এখন স্কুল বন্ধ থাকায় পড়াশোনাতেও
শেষ আপডেট: 27 January 2022 07:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অনলাইনে ক্লাস নিয়ে ঠিকঠাক ধারণাই নেই। স্মার্টফোন, ইন্টারনেটের অভাবে অনলাইন ক্লাস করতেই পারছে না অনেক পড়ুয়ারা। প্রত্যন্ত এলাকাগুলিতে ছাত্রছাত্রীদের স্কুলে ডেকে আনতেই অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়। এখন স্কুল বন্ধ থাকায় পড়াশোনাতেও ইতি টেনে দিয়েছে পড়ুয়ারা। পরিকাঠামোর অভাব, আগ্রহের অভাবে দিনে দিনে রাজ্যে স্কুলছুটদের সংখ্যা বাড়ছে। এদের ফিরিয়ে আনতে স্কুল খুলে দেওয়াই একমাত্র পথ। তাই স্কুল-কলেজ খোলার আর্জি জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছেন একজন শিক্ষক।
প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে মামলা উঠেছে। আবেদনকারীর পক্ষ থেকে মামলা লড়ছেন বিশিষ্ট আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। মামলাকারী শিক্ষকের আর্জি, অবিলম্বে স্কুল-কলেজ খোলা হোক। না হলে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহই হারিয়ে ফেলবে অধিকাংশ পড়ুয়া। তাঁর বক্তব্য, কোভিড পরিস্থিতির জেরে সবমিলিয়ে প্রায় দু'বছর বন্ধ রয়েছে রাজ্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি। কিছু ক্ষেত্রে ক্লাস হলেও তা হয়েছে ভার্চুয়াল মাধ্যমে। কিন্তু মোবাইল ফোন, ট্যাবলেট না থাকার কারণে আর্থিক ভাবে অনগ্রসর পরিবারের অনেক পড়ুয়াই তাতে অংশ নিতে পারেনি। এর ফলে ওই সময় থেকে পাকাপাকি ভাবে অনেকেই পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছে। তাছাড়া অনলাইন ক্লাস করার পরিকাঠামো নেই অনেক জায়গাতেই। স্মার্টফোনে ক্লাস করায় অভ্যস্তও নয় অনেকে। ফলে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। তাই স্কুলই ছেড়ে দিচ্ছে পড়ুয়ারা।
গত বছর নভেম্বর মাসে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির জন্য স্কুল খোলার পরে দেখা গিয়েছিল গ্রামাঞ্চলের স্কুলগুলিতে উপস্থিতির হার নিতান্তই কম। শিক্ষকরা বলেছিলেন, করোনার কারণে দীর্ঘ সময় স্কুল বন্ধ থাকায় ফের স্কুলমুখো হওয়ার আগ্রহ হারিয়েছে অনেকে। অনেক মেয়ের অপরিণত বয়সেই বিয়ে হয়ে গিয়েছে। ছেলেদের অনেকে কাজে ভিন্ রাজ্যে গেছে বা দিনমজুরি খাটতে চলে গেছে। গত মে মাসের সমীক্ষায় স্কুলছুটদের সংখ্যা যা ধরা পড়েছিল, নভেম্বরের পর থেকে তা নাকি আরও বেড়েছে বলে দাবি। স্কুলছুটদের সংখ্যাসঠিকভাবে জানাতে হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলাও দায়ের হয়েছিল। রাজ্যের স্কুলগুলিতে পড়ুয়া-শিক্ষক অনুপাত কত, স্কুল ড্রপআউট করছে কতজন তা ঠিকমতো আদালতে জানাতেই পারেনি সরকার।
মামলাকারীর আবেদন, জীবন-জীবিকার কারণে স্কুল বিমুখ হয়ে পড়ছে ছাত্রছাত্রীরা। পরিকাঠামোর অভাবও বড় কারণ। তাই পড়ুয়াদের ফেরাতে স্কুল খুলে দেওয়ার ভাবনাচিন্তা করুক সরকার।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'