দ্য ওয়াল ব্যুরো: পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ায় তাঁতিদের পাশে দাঁড়াল প্রশাসন। সরকারের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে রেশন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হলেও ব্যবসা বন্ধ হতে বসেছে তাঁদের। এই অবস্থায় সুতো কিনে আনার জন্য গাড়ির বিশেষ অনুমতি দিয়েছে মহকুমা প্রশাসন।
কাটোয়া মহকুমার কাটোয়া ২ নম্বর ব্লকের ঘোড়ানাশ, মুস্থূল, আমডাঙা, একডেলা ও পাঁচবেড়ে – এই পাঁচটি গ্রামের বেশির ভাগ পরিবার তাঁত বুনে নিজেদের জীবিকা নির্বাহ করে। এই গ্রামগুলির অন্তত সাড়ে তিন হাজার মানুষের কেউ তাঁত বোনেন, কেউ সুতো কাটেন। কোনও না কোনও ভাবে তাঁরা যুক্ত তাঁত শিল্পের সঙ্গে।
করোনার সংক্রমণ রুখতে সারা দেশে লকডাউন ঘোষণা করেছে সরকার। প্রথমে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত করা হলেও সরকারি নির্দেশে তা বেড়ে ৩ মার্চ পর্যন্ত হয়েছে। তার প্রভাব পড়েছে কাটোয়ার তাঁতশিল্পীদের জীবন ও জীবিকার উপরে। লকডাউনের আগে এই সমস্ত গ্রামে তৈরি চাদর, শাড়ি, দোপাট্টা প্রভৃতি দেশ-বিদেশে রফতানি করা হত। লকডাউনের জেরে যান চলাচল বন্ধ থাকার ফলে তাঁতে তৈরি কাপড় রফতানি বন্ধ। মালিকপক্ষ এখন কাপড় নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। একই সঙ্গে তারা তাঁতশিল্পীদের সুতো দেওয়া এবং টাকা দেওয়া – দুই-ই বন্ধ করে দিয়েছে।
লকডাউনের আগে কাটোয়ার এই পাঁচটি গ্রামে সব সময়ই তাঁত বোনার শব্দ পাওয়া যেত। এখন সেখানে চার দিক নিস্তব্ধ। সুতোর জোগানের অভাবে তাঁত বোনার কাজও বন্ধ। টাকার জোগানের অভাবে টান পড়েছে তাঁত শিল্পীদের পেটে। এখন কোনও ভাবে একবেলা খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন কাটোয়ার ঘোড়ানাশ, মুস্থূল, একডেলা, আমডাঙা ও পাঁচবেড়ে গ্রামের তাঁত শিল্পীরা। অন্তত গ্রামের লোকজন সেকথাই বলছেন।
কাটোয়ার পুরপ্রধান তথা বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের সব মানুষকে বিনামূল্যে রেশন দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। সেই ঘোষণা অনুযায়ী কাটোয়া ২ নম্বর ব্লকের তাঁত শিল্পীরাও রেশন পাচ্ছেন। সেই সঙ্গে পঞ্চায়েতের তরফে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। সেই সামগ্রী প্রচুর না হলেও দিন চলার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তাঁতিরা যাতে তাঁত চালু রাখতে পারেন সেজন্য ফুলিয়া থেকে সুতো আনা প্রয়োজন। সেজন্য মহকুমাশাসকের কাছ থেকে একটি গাড়ির অনুমতি নেওয়া হয়েছে।” এছাড়াও তাঁতিদের তৈরি কাপড় যাতে মহাজনরা কিনতে পারেন এবং তাঁতিরা যাতে তাঁদের প্রাপ্য টাকা হাতে পান সে ব্যাপারে মন্ত্রী স্বপন দেবনাথের সঙ্গে কথা বলার আশ্বাস দিয়েছেন কাটোয়ার বিধায়ক।