দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাজ পড়ে বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদ জেলায় এক শিশুকন্যা-সহ দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত দু’জন। তাদের মধ্যে এক জন চার বছরের শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এদিন বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ ঝড়ো হাওয়া বইতে শুরু করে। তখন হরিহরপাড়ার রামপড়া ভাণ্ডারদহ এলাকায় একটি বাড়ির উঠোনে খেলা করছিল ছ’বছরের সোমা ঘোষ এবং তার ভাই বছর চারেকের সৌমেন ঘোষ। আচমকাই বাজ পড়ে। বিকট শব্দ শুনে তখনই ওই বাড়ির লোক জন ছুটে এসে দেখেন উঠোনে ছটফট করছে দুই শিশুই। প্রতিবেশীরাও ছুটে আসেন। ততক্ষণে শুরু হয়ে গেছে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি।
একে লডকাউন, তার উপরে ঝড়-বৃষ্টি। এই অবস্থায় আহত দুই ভাই-বোনকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রথমে কোনও গাড়ি পাওয়া যাচ্ছিল না। শেষে হরিহরপাড়া থানার একটি গাড়িতে করে তাদের বহরান প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নিয়ে যেতেই সোমা ঘোষকে (৬) মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসক। সৌমেনের আঘাত গুরুতর হওয়ায় তাকে বহরমপুর মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে কলকাতায় পাঠানো হয়েছে।
এদিন প্রায় একই সময়ে বজ্রাঘাতে আহত হন ইসলামপুর থানার নাজিরপুর এলাকার মিজানুর রহমান। বয়স সাতাশের মিজানুর গবাদি পশুর জন্য মাঠে ঘাস আনতে গিয়েছিলেন। তাঁকে ডোমকল মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।
বজ্রাঘাতে জেলার বেলডাঙাতেও একজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরেও এদিন বজ্রাঘাতে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লক এলাকার বারদুয়ারি দক্ষিণ রামনগর গ্রামের বছর তেত্রিশের মিঠু কর্মকার মাঠে কাজ করছিলেন। বজ্রাঘাতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পাশের বাইশা গ্রামের বছর সাতান্নর পিনু ওঁরাও ঝড়ের সময় আমবাগানে ছিলেন। তাঁরও মৃত্যু হয় বজ্রাঘাতে। হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকার নারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা বছর তেইশের সুলতান আহমেদের এদিন বজ্রাঘাতে মৃত্যু হয়। তিনিও দুপুরে মাঠে কাজ করছিলেন। বজ্রাঘাতে আহত হয়েছেন রামনগর এলাকার বাসিন্দা বাইশ বছরের কৃষ্ণ সাহা। তাঁকে প্রথমে হরিশ্চন্দ্রপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি ঘটায় পরে তাঁকে চাঁচল সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।