ছেলের কাছে এক বেলা থাকা-খাওয়ার খরচ ৩০ টাকা, দিতে না পারায় মহিষাদলের ভাঙা রাজদালানে ঠাঁই বৃদ্ধের
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছেলের হুলিয়ায় পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদলে অন্ন জুটছে না বছর সত্তরের বৃদ্ধ গঙ্গাধর সামন্তের। ঘরের বদলে এখন থাকতে হচ্ছে মহিষাদল রাজবাড়ির ভাঙা দালানে। ছেলের হুলিয়া ছিল – বাড়িতে ৩০ টাকা রোজ দিতে হবে তাও এক বেলা খাওয়ার জন্য। পর
শেষ আপডেট: 8 June 2020 08:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছেলের হুলিয়ায় পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদলে অন্ন জুটছে না বছর সত্তরের বৃদ্ধ গঙ্গাধর সামন্তের। ঘরের বদলে এখন থাকতে হচ্ছে মহিষাদল রাজবাড়ির ভাঙা দালানে। ছেলের হুলিয়া ছিল – বাড়িতে ৩০ টাকা রোজ দিতে হবে তাও এক বেলা খাওয়ার জন্য। পরে বাজারদর চড়া হয়ে যাওয়ায় সেটা বেড়ে হয় ৪০ টাকা। কিন্তু করোনার জন্য সব বন্ধ থাকায় রোজগারের উপায় বন্ধ হয়ে গেছে বৃদ্ধের। তাই এখন দুর্দশা চরমে।
দারিদ্রের সঙ্গে লড়াই করে সত্তর বছরে জীবনীশক্তির অনেকটাই খরচ করে ফেলেছেন গঙ্গাধর। এই অবস্থায় নিয়মিত রোজগার করে যাওয়া তাঁর পক্ষে বেশ কঠিন। শরীরটা নিয়ে চলাই এখন কষ্টকর হয়ে পড়েছে। এখন লকডাউন অনেকটাই শিথিল হয়েছে। রাস্তায় লোকজন চলাফেরা করছেন। তাঁদের দেওয়া খাবারই ভরসা বৃদ্ধের।
গঙ্গাধরের তিন সন্তান। হকারি করে তাঁদের বড় করেছেন। দুই মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। ঘরে নাতি-নাতনি রয়েছে। তাই বৃদ্ধের ইচ্ছা ছিল কর্মজীবন থেকে অবসর নিয়ে তাদের সঙ্গে বাকি জীবন কাটানো। তবে ছেলে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, তার কাছে থাকতে ও একবেলা খেতে গেলে রোজ হিসাবে টাকা দিতে হবে।

বৃদ্ধ বয়সে নতুন করে ফেরিওয়ালার কাজ শুরু করেন বৃদ্ধ। মাথায় আইসক্রিমের বাক্স আর হাতে চকোলেটের ব্যাগ নিয়ে বিভিন্ন স্কুলের সামনে গিয়ে হাঁক দিতে শুরু করেন। কোনও কোনও স্কুল মিড-ডে মিলের খাবার তাঁকেও দিত। স্কুল বন্ধ থাকলে এক বেলা খাবার না জোটা প্রায় নিয়ম হয়ে গিয়েছিল। অনুষ্ঠান বাড়ি হলে সেখানে খাবার জুটত। রোদ-জল-ঠান্ডা – কোনও দিনই বসার জো ছিল না বৃদ্ধের কারণ রাতের খাবার খেতে ও ঘরে থাকতে হলে টাকা দিতে হবে ছেলেকে। লকডাউনের ফলে সেই রোজগারের রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়।
ছেলেকে টাকা দেওয়া বন্ধ হতেই বাড়ির দরজাও বন্ধ হয়ে যায়। ঠাঁই হয় মহিষাদল রাজবাড়ির ভাঙা দালানে। মাস দুয়েকে এক বারও খোঁজ নেয়নি ছেলে হরিসাধন সামন্ত। তাঁর কাছে সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা গেলে তিনি কারও সঙ্গে কথা না বলে দুর্ব্যবহার করতে শুরু করেন।
লকডাউন উঠেছে অনেকটাই তবে স্কুল কবে খুলবে সে কথা জানেন না বৃদ্ধ। তাই কত দিন এভাবে থাকতে হবে সেকথাও তাঁর অজানা।