দ্য ওয়াল ব্যুরো: কপালে বন্দুক ঠেকিয়ে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে এক কেবল অপারেটরের অফিসে ডাকাতি করল তিন দুষ্কৃতী। সন্ধ্যা সাড়ে আটটা নাগাদ মধ্যমগ্রামের সুভাষপল্লিতে তাঁর বাড়ির তলার অফিসে কাজ করছিলেন কেবল অপারেটর শঙ্কর সাহা। অভিযোগ, সেই সময় একটি মোটর বাইকে করে তিনজন দুষ্কৃতী আসে। তারা শঙ্করের মাথায় আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে গলায় থাকা সোনার হার, আংটি, নগদ টাকা, দামি মোবাইল ফোন এবং টাকা ও বিভিন্ন কার্ড সমেত পার্স লুঠ করে নিয়ে যায়। ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন কেবল অপারেটর ও তাঁর পরিবারের লোকজন।
দুষ্কৃতীরা চলে যাওয়ার পরে মধ্যমগ্রাম থানায় খবর দেন শঙ্কর সাহা। খবর পাওয়ার পরে ঘটনাস্থলে হাজির হয় মধ্যমগ্রাম থানার পুলিশ এবং তখনই তদন্ত শুরু করে দেয়। সোমবার সকালে শঙ্কর সাহা ও তাঁর স্ত্রী জানিয়েছেন, তাঁরা এখন রীতিমতো আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। এর আগে এমন ঘটনা ওই অঞ্চলে ঘটেনি বলেও তাঁরা দাবি করেছেনপার্স
রবিবার ছুটির দিন হওয়ায় সন্ধ্যার পরে রাস্তায় লোকজন তেমন ছিল না। তার সঙ্গে সূর্যগ্রহণ ও দিনভর বৃষ্টি হওয়ায় লোকজনও বাড়ি থেকে সেভাবে রাস্তায় বের হননি। পথঘাট ফাঁকা থাকার সুযোগে তিন দুষ্কৃতী হাজির হয় কেবেল অপারেটরের অফিসে।
শঙ্কর সাহার স্ত্রী বলেন রাধা সাহা, “ও ঘন ঘন বেল বাজাচ্ছিল। আমি তাড়াতাড়ি এসে দরজা খুলে দেখি ভয়ে তখন কাঁপছে। কাল রাস্তাঘাট একেবারে ফাঁকা ছিল। সেই কারণে ও আরও কিছু বলতে পারেনি। আমরা এখনও আতঙ্কে রয়েছি। কাল সারা রাত আমরা একটুও ঘুমতে পারিনি। আমাদের এই এলাকায় আগে এভাবে ডাকাতি হয়েছে বলে শুনিনি।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে বেশ কিছুক্ষণ ধরে তিন মোটরবাইক আরোহীকে ওই এলাকার ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে।
মধ্যমগ্রাম থানার আইসি পিনাকী রায় বলেন, “গত কাল রাতে খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমি ঘটনাস্থলে গেছি। তদন্ত শুরু হয়েছে। বাড়ির লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। বাড়ির লোকের বয়ান অনুযায়ী তদন্ত শুরু হয়েছে।” পুলিশ সূত্রে জানা গেছে রাস্তার বিভিন্ন মোড়ে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। সেগুলি দেখা হবে। পরে প্রত্যদর্শীদের ডাকা হবে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার জন্য।
লকডাউনের একেবারে শেষপর্বে মধ্যমগ্রাম স্টেশনরোডে একটি সোনার দোকানে ডাকাতি হয়। সেই ডাকাতির কিনারা এখনও করে উঠতে পারেনি পুলিশ। তার আগেই আরও একটা ডাকাতি হয়ে গেল মধ্যমগ্রামে।