দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: হুগলির পাণ্ডুয়া থানার বৈঁচিগ্রামে পারিবারিক অশান্তির জেরে তিন মাসের শিশুকে কামড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল মায়ের বিরুদ্ধে। এই ঘটনা জানাজানির পরে বুধবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা চড়াও হন ওই মহিলার বাড়িতে। এলাকা সূত্রে জানা গেছে ওই শিশুটি এখন সুস্থ আছে যদিও শরীরে দাঁতের দাগ এখনও রয়েছে।
বৈঁচিগ্রামের এক ব্যক্তির সঙ্গে অভিযুক্তের বিয়ে হয় বছর দেড়েক আগে। তাঁদের একটি মাস তিনেকের ছেলেও আছে। তাঁরা একটি ভাড়া বাড়িতে থাকেন। অভিযুক্তের স্বামী রাজমিস্ত্রির জোগাড়ের কাজ করেন। ওই মহিলা অভিযোগ করেছেন, বিয়ের পর থেকেই স্বামী তাঁর ওপর অকথ্য অত্যাচার করে আসছেন। তাঁর সন্দেহ বাতিক রয়েছে। বাড়ি কেউ এলে স্ত্রীর সঙ্গে অশান্তি শুরু হয়ে যায়। নেশা করে এসে প্রায়ই স্ত্রীকে তিনি বেধড়ক মারধর করেন বলেও অভিযোগ স্ত্রীর। মারের ভয়ে মুখ খুলতেই পারতেন না তিনি। বুধবার রাতে অশান্তি চরমে ওঠে। তখনই তিন মাসের ছেলের পাঁজরে দাঁত বসিয়ে দেন অভিযুক্ত।
অভিযুক্তের শাশুড়ি বলেন, “বুধবার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। এরপর নাতিকে কামড়ে দেয় বৌমা।” যদিও ছেলেকে কামড়ে দেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত।
জানা গেছে, এখনও শিশুটির পাঁজরে দাগ রয়েছে দাঁতের। সেই দাগ কোথা থেকে এল সে কথা বলতে পারছেন না অভিযুক্ত। তাঁর স্বামীও এব্যাপারে কোনও কথা বলছেন না। এই ঘটনায় কোথাও লিখিত কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি।
এলাকার লোকজন বলছেন প্রত্যেক দিন অত্যাচারের শিকার হতে হতে তা সহ্য করতে না পেরে ছেলেকে কামড়ে দিয়েছেন ওই মহিলা। চেলের প্রতি মায়া থাকলে যদি ওই ব্যক্তি অত্যাচার কমায় — এমন কিছু ভেবে থাকতে পারেন ওই মহিলা। অনেক আবার বলছেন স্বামীর অত্যাচার দীর্ঘ দিন ধরে সহ্য করে গেলেও এদিন তার বহিপ্রকাশ ঘটেছে। গ্রামের লোকজন এখন চাইছেন বাড়িতে শান্তি ফিরুক। স্ত্রীকে মারধর বন্ধ করুক ওই ব্যক্তি।