দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর ২৪ পরগনাঃ ঘূর্ণিঝড় উমফানের তাণ্ডবে বিধ্বস্ত সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকা। একদিকে নদীবাঁধ ভেঙেছে, অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ম্যানগ্রোভ। তার ফলে ভূমিক্ষয় হচ্ছে। আর এই পরিস্থিতিতে ভূমিক্ষয় ও নদী ভাঙন আটকাতে বড় উদ্যোগ নিল পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের ইছামতী বিজ্ঞান কেন্দ্র ও অলস্টার লাইফ নামের এক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। ম্যানগ্রোভ লাগানোর কাজ শুরু করল তারা।
জানা গিয়েছে, উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাট মহকুমার হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকে এই কাজ শুরু হয়। এখানকার রূপমারি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার কুমীরমারি, বেড়ে চক ও ডাসা নদী ধরে প্রায় ২ কিলোমিটার জুড়ে ম্যানগ্রোভের চারা বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। এই এলাকায় প্রায় ৩০ হাজার ম্যানগ্রোভের চারা লাগানো হবে বলে জানা গিয়েছে।
এই চারা লাগানোর কাজ শুরু করেছে পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের ইছামতী বিজ্ঞান কেন্দ্র ও অলস্টার লাইফ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। এই এলাকায় সুন্দরী, কেওড়া, কালোবাইন, পেয়ারবাইন, ঘরখোজা প্রভৃতি ম্যানগ্রোভের চারা লাগানোর কাজ শুরু হয়েছে। এই ম্যানগ্রোভের চারাগুলি বড় হয়ে গেলে তার ফলে ঘূর্ণিঝড় বা অন্য কোনও প্রাকৃতিক বিপর্যয় হলে তা অনেকটাই আটকানো যাবে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।
এদিনের এই কর্মযজ্ঞে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের ইছামতী বিজ্ঞান কেন্দ্রর সভাপতি পার্থ মুখোপাধ্যায় ও সম্পাদক প্রদীপ সরকার, অলস্টার লাইফ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য বিপুল গায়েন সহ অন্যান্য সদস্যরা। শনিবার সকাল থেকেই এই কাজ শুরু হয়।
উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, এদিনই এই কর্মসূচি শুরু হল। আগামী দিনেও তা চলবে। এই ম্যানগ্রোভ চারাগুলি বড় হয়ে গেলে একদিকে যেমন নদী ভাঙন আটকানো যাবে, অন্যদিকে তেমনই ঘূর্ণিঝড়ের মতো কোনও প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলা করাও সম্ভব হবে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে তাঁরা সুন্দরবন বাঁচাও, পরিবেশ বাঁচাও এই স্লোগানের ডাক দিয়েছেন। এই কাজে এদিন হাত লাগান স্থানীয় বাসিন্দারাও। তাঁরা উদ্যোক্তাদের নির্দেশে এই চারাগাছ গুলি লাগান। যে গাছগুলি লাগানো হল, সেগুলির দিকে নজর দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। শুধুমাত্র হিঙ্গলগঞ্জ নয়, গোটা সুন্দরবন জুড়ে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।
উমফানের পরে সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকায় তাণ্ডবের পরে ত্রাণের কাজ শুরু করেছিল অলস্টার লাইফ। এখনও বিভিন্ন জায়গায় সেই কাজ করে চলেছেন তাঁরা। তার মধ্যেই এবার ম্যানগ্রোভের চারা লাগানোর কাজে হাত লাগাল তারা।