দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত ২৪ ঘণ্টায় বাংলার জেলায় জেলায় দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন। আগুন, ভাঙচুর থেকে বাদ যায়নি সরকারি বাস, ট্রেন এমনকি থানাও। এই পরিস্থিতিতে হিংসাত্মক আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বার্তায় বলেছেন, “গণতান্ত্রিক পথে আন্দোলন করুন, কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না। পথ অবরোধ, রেল অবরোধ করবেন না। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বরদাস্ত করা হবে না। যাঁরা গণ্ডগোল করছেন, রাস্তায় নেমে আইন হাতে তুলে নিচ্ছেন, তাঁদের কাউকে ছেড়ে দেওয়া হবে না। বাসে আগুন লাগিয়ে, ট্রেনে পাথর ছুড়ে, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করলে, আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বসিরহাট থেকে সাঁতরাগাছি, মুর্শিদাবাদের সুতি, বেলডাঙা-সহ একাধিক জায়গা থেকে অশান্তির খবর আসতে থাকে শনিবার। শুক্রবারের পর এদিন নতুন করে অশান্তি ছড়িয়েছে বেশ কিছু জায়গায়। গোটা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষ উদ্বেগে। রাস্তায় বেরিয়ে অবরোধে পড়া মানুষজন কার্যত আতঙ্কে কাঁপছেন। এদিনও হাওড়া ডিভিশনের দক্ষিণ-পূর্ব শাখা ট্রেন চলাচল বিঘ্নিত হয়েছে আন্দোলনকারীদের অবরোধে। সব মিলিয়ে আন্দোলনকারীদের প্রশমিত করতে কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। দিলেন আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও।

শুক্রবার সাধারণ মানুষকে দলমত নির্বিশেষে রাস্তায় নামার ডাক দিয়েছিলেন মমতা। জানিয়ে দিয়েছিলেন, তিনিও সোমবার মিছিলে হাঁটবেন। কিন্তু ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যে আন্দোলন এই পর্যায়ে যাবে তা হয়তো অনেকেই আন্দাজ করেননি।
রাজ্যের দিকে দিকে এই অশান্তি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়ে গিয়েছে। বিজেপি রাজ্য সভাপতি এই গোটা ঘটনার দায় চাপিয়েছেন তৃণমূলের উপর। তাঁর দাবি, বাংলায় সেনা নামানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তৃণমূল অবশ্য এই সমস্ত ঘটনার জন্য বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলেছে। শাসকদলের বক্তব্য, বিজেপির জন্যই আজ এই অবস্থায় দেশ। সব মিলিয়ে উত্তর-পূর্বের পর বাংলার পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক বলেই মনে করছেন অনেকে।