দ্য ওয়াল ব্যুরো, হাওড়া: কয়েক দিন আগে করোনা থেকে মুক্তি পেয়ে বাড়ি ফিরেছেন। পিপিই কিট আর মাস্ক পরে রাখিপূর্ণিমার দিন তাঁরা হাওড়ার কালীবাবুর বাজার এলাকায় ঘুরে ঘুরে সচেতন করলেন মানুষজনকে। রাখিবন্ধন উৎসব অন্যরকম ভাবে পালন করলেন দুই স্বাস্থ্যকর্মী।
শ্রাবণী দে ও চৈতালি দাস। দু’জনেই স্বাস্থ্য কর্মী। সদ্য করোনা সারিয়ে উঠেছেন। রাখিপূর্ণিমার দিনটি তাঁরা পালন করলেন একেবারে অন্যরকম ভাবে। মধ্য হাওড়ার কালীবাবুর বাজার সংলগ্ন এলাকায় সকাল বেলায় তাঁদের রাস্তায় দেখা গেল পিপিই কিট পরে ঘুরতে। সঙ্গে প্রাক্তন পুরমাতা মল্লিকা রায়চৌধুরী। তাঁরা পথচলতি লোকজনকে রাখির শুভেচ্ছা লেখা মাস্ক তুলে দেন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে অনেকের হাতে রাখি পরিয়ে দেন। সচেতন করেন অনেককে।
ওই দুই স্বাস্থ্যকর্মী সকলকে বোঝান, করোনা মানেই আতঙ্ক নয়। তবে সাবধানতা অবশ্যই অবলম্বন করতে হবে। মাস্ক তো পরতেই হবে। মল্লিকা রায়চৌধুরী এ দিন বলেন, “ওই দুই স্বাস্থ্যকর্মী ওয়ার্ডের কাজ করতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হন। সুস্থ হয়ে ফিরেও আসেন। বর্তমানে দেখা যাচ্ছে কোনও এক জন করোনায় আক্রান্ত হওয়া মানেই অন্য লোকজন তাঁকে সামাজিক ভাবে বাঁকা চোখে দেখছেন। তা ছাড়া সচেতনও নন অনেকেই। তাই আজকের বিশেষ দিনে দুই স্বাস্থ্যকর্মীকে নিয়ে রাখিবন্ধন উৎসব পালন করলাম একটু অন্য রকম ভাবে।” তিনি জানিয়েছেন এদিন তাঁরা তিন হাজার মাস্ক বিতরণ করেছেন।
হাওড়া জেলায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়লেও লোকজনের মধ্যে এখনও অসচেতন ভাব দেখা যাচ্ছে। রাজ্য সরকার মেনে নিয়েছে যে রাজ্যে গোষ্ঠী সংক্রমণ শুরু হয়ে গেছে। তারপরেও বাজার-দোকানে লোকজন যথেচ্ছ ভিড় করছে। মাস্ক পরতে দেখা যাচ্ছে না অনেককেই। এই অবস্থায় করোনা নিয়ে মানুষজনকে সচেতন করতে তাঁরা পথে নামলেন।
করোনা সংক্রমণের নিরিখে এখন এ রাজ্যে কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগনার ঠিক পরেই রয়েছে হাওড়া জেলা। হাওড়া জেলায় লাফিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। রাজ্য সরকারের সর্বশেষ কোভিড বুলেটিন অনুযায়ী এই জেলায় নতুন করে এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন ২৪৫ জন। এর ফলে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৮,২৫৭। তবে একই সময়ে ২৪২ জন সুস্থ হয়ে ওঠায় জেলায় করোনা থেকে সেরে ওঠা লোকের সংখ্যা ৬,০৮১। এই রোগে এখনও পর্যন্ত এখানে মৃত্যু হয়েছে ২১২ জনের। বর্তমানে করোনা পজিটিভের সংখ্যা ১,৯৬৪।