দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছেলে অন্যত্র থাকলেও করোনায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি রয়েছেন কোভিড হাসপাতলে। শুধুমাত্র এই কারণেই হাওড়ার ডোমজুড়ের সলপ বটতলায় তাঁর বাবা-মাকে ঘরে ঢুকতে দিলেন না বাড়ির মালিক এবং প্রতিবেশীরা। এই অমানবিক আচরণের প্রতিবাদে এদিন পথে নেমে বিক্ষোভ দেখালেন ওই দম্পতি।
স্থানীয় সূত্রে খবর, ডোমজুড়ের বটতলায় এক যুবক গত বৃহস্পতিবার হাওড়া জেলা হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে যান। তাঁর লালারসের নমুনা পরীক্ষা করলে দেখা যায় করোনা পজিটিভ। এরপরে গতকাল ডোমজুড় হাসপাতাল থেকে তাঁর বাড়িতে অ্যাম্বুল্যান্স পাঠানো হয়। সেই অ্যাম্বুল্যান্সে করে তাঁকে ফুলেশ্বরের সঞ্জীবন হাসপাতলে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে সেখানেই তিনি চিকিৎসাধীন।
তিনি এবং তাঁর বাবা-মা আলাদা বাড়িতে থাকেন। তা সত্ত্বেও এই খবর এলাকায় চাউর হতেই বাড়ির মালিক ও প্রতিবেশীরা ওই যুবকের বাবা-মায়ের ওপর চাপ দিতে থাকেন বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার জন্য। প্রবল চাপে পড়ে শেষ পর্যন্ত বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে বাধ্য হন ওই দম্পতি। তাঁরা পুলিশের দ্বারস্থ হন। অভিযোগ পুলিশের পক্ষ থেকেও তাঁদের কোনও রকম সহযোগিতা করা হয়নি।
এদিন সলপ প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ওই দুজনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। তাঁদের কারও শরীরে করোনার কোনও উপসর্গ দেখা যায়নি।
সুজাতা দাস নামে ওই দম্পতির এক শুভানুধ্যায়ী বলেন, “ছেলেটি ছ-মাস ভুগছিল। ডাক্তার বলেন লিভারে সমস্যা রয়েছে ও জন্ডিস হয়েছে। হাওড়া হাসপাতালে দুবার ওষুধ দিয়ে ছেড়ে দিয়েছে। তৃতীয়বার সে যায় বৃহস্পতিবার। তখন লালারসের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। সোমবার ডোমজুড় হাসপাতাল থেকে জানানো হয় করোনা হয়েছে। তারপর বাড়িওয়ালা ও প্রতিবেশীরা ওর বাবা-মাকে থাকতে দেয়নি। পুলিশও কোনও সহায়তা করেনি। আমি নিজেও থানায় ফোন করেছি। ওদের জন্য কোয়ারেন্টাইন সেন্টারের ব্যবস্থা করতে বলেছি। কিন্তু ওরা সারা রাত রাস্তায় কাটিয়েছে।”
বাড়ি ফিরতে না পেরে ওই দম্পতি রাস্তাতেই সারা রাত কাটান। মঙ্গলবার সকালে স্বামী স্ত্রী রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান। তার পরে ঘটনাস্থলে ছুটে হাজির হয় ডোমজুড় থানার পুলিশ। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ওই দম্পতিকে একটি কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে রাখার ব্যবস্থা করা হয়। ডোমজুড়ের বিডিও রাজা ভৌমিক বলেন, “সলপ ২ নম্বর ব্লকে এক জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁকে চিকিৎসার জন্য বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। আরেকটা বাড়িতে ভাড়া থাকতেন তাঁর বাবা-মা। তাঁরা স্বতন্ত্র পরিবার হওয়া সত্ত্বেও তাঁদের বাড়িওয়ালা রাখতে দিতে হয়তো চাইছিলেন না। এরকম একটা ঘটনা ঘটেছে। আমরা মানুষকে সচেতন করছি। আরেকটু সংবেদনশীল হতে বলছি। আমরা স্থানীয় পঞ্চায়েত, পুলিশ ও বিএমওএইচের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের উপযুক্ত জায়গায় রাখার ব্যবস্থা করেছি। পরিস্থিতি ঠিকঠাক হয়ে গেলে আমরা তাঁদের স্বস্থানে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করব।”