দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফুরফুরা শরিফের চশমে চিরাগ আব্বাস সিদ্দিকির সঙ্গে দেখা করতে শ্রীরামপুরের চাতরা থেকে উজিয়ে জাঙ্গিপাড়ায় গিয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান। অনেকেই যখন সেদিকে তাকিয়ে ছিলেন তখন সেই বৈঠকটাই হল না। প্রবীণ কংগ্রেস নেতা ফুরফুরায় পৌঁছলেও ছিলেন না আব্বাস।
মান্নান পৌঁছনোর পর আব্বাসের ভাই তাঁকে জানান, দাদা মেদিনীপুর থেকে ফিরছেন। কিছুক্ষণেই চলে আসবেন। জানা গিয়েছে, মান্নানকে টাইম দিয়েছিলেন আব্বাস। বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা যখন জানতে চান আব্বাস কতক্ষণে পৌঁছবেন? সূত্রের খবর সেই উত্তর না দিয়ে আব্বাসের ভাই বলেন, আমরা কথা বলতে থাকি, দাদা চলে আসবেন।
মান্নান সাহেব এ ব্যাপারে একরোখা। স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি অপেক্ষা করবেন না। তক্ষুনি জাঙ্গিপাড়া থেকে শেওড়াফুলি জেলা কংগ্রেস কার্যালয়ের উদ্দেশে রওনা দিয়ে দেয় মান্নানের কনভয়। এদিন মান্নান বলেন, "যা ঘটল তাতে আমার ভীষণ খারাপ লেগেছে। আমি মর্মাহত।"
আব্বাস নিজেই বাম-কংগ্রেসের সঙ্গে জোটের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন ডায়মন্ড হারবারের সভা থেকে। ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট নামক নিজে দলও করেছেন আব্বাস। সিপিএম রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র বলেছেন, আব্বাস যা বলছেন তা বহুজনের কথা। সেখানে সাম্প্রদায়িকতা নেই।
অব্বাসকে জোটে পেতে চেয়ে সনিয়া গান্ধীকে চিঠি দিয়েছিলেন মান্নান। আগেরদিন বাম-কংগ্রেস বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় মান্নানই সমন্বয় করবেন আব্বাসের সঙ্গে। এদিনের বৈঠকের উদ্দেশ ছিল প্রাক কথন। আব্বাস কোন কোন আসন চাইছেন, কটা আসন চাইছেন সেটা বুঝতে চাওয়া। কিন্তু তা হল না বুধবার।
আবদুল মান্নান বলেন, "বাম-কংগ্রেসের মধ্যে ২৩০টি আসনে বোঝাপড়া হয়ে গেছে। বাকিটা ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হয়ে যাবে।" যদিও আব্বাসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন সিপিএম পলিটব্যুরোর সদস্য মহম্মদ সেলিমও।
এখন দেখার শেষ পর্যন্ত কী হয়। বাম-কংগ্রেসের মধ্যে এখনও যে ৬৪টি আসনে রফা হয়নি তাতে আব্বাস ঢোকেন কিনা। জানা গিয়েছে এই ৬৪ আসনের অধিকাংশই দক্ষিণবঙ্গের। হাওড়া, হুগলি ও দুই ২৪ পরগনার। যেখানে আব্বাসের প্রভাব রয়েছে বেশ কিছু কেন্দ্রে।